শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ , ১০:০৪ এএম
বাড়িতে তরল দুধ না থাকলে অনেকেই গুঁড়া দুধ ব্যবহার করেন। কেউ আবার চা তৈরির পাশাপাশি চামচে করে গুঁড়া দুধ খেতেও পছন্দ করেন। তবে নিয়মিত গুঁড়া দুধ খাওয়া শরীরের জন্য কতটা ভালো, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গুঁড়া দুধ নিরাপদ হলেও কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
গুঁড়া দুধ তৈরি করা হয় তরল দুধের পানি শুকিয়ে। তাই এর পুষ্টিগুণ অনেকটাই তরল দুধের মতো। এতে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থাকে। তবে এটি প্রক্রিয়াজাত হওয়ায় কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বুক জ্বালা, অম্বল, ঢেকুর বা হজমের অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গুঁড়া দুধ দীর্ঘদিন ভালো রাখতে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়। এতে থাকা অক্সিডাইজড কোলেস্টেরল বেশি পরিমাণে শরীরে গেলে রক্তনালীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তবে পুষ্টিগুণের দিক থেকে গুঁড়া দুধ ও তরল দুধের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। পার্থক্য মূলত স্বাদ ও গঠনে। অনেক সময় গুঁড়া দুধ ঠিকভাবে না গুললে চা বা অন্য পানীয়তে ডেলা তৈরি হয়, যা খেতে অস্বস্তিকর হতে পারে।
শিশুর জন্য গুঁড়া দুধ কতটা নিরাপদ?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুঁড়া দুধ সাধারণভাবে নিরাপদ হলেও শিশুদের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।
সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে এতে জীবাণু জন্মাতে পারে। তাই সব সময় পরিষ্কার ও শুকনো স্থানে রাখতে হবে এবং নিরাপদ পানি দিয়ে তৈরি করতে হবে।
কিছু গুঁড়া দুধে পরিবেশগত দূষণ বা উৎপাদন প্রক্রিয়ার কারণে ক্ষতিকর উপাদান থাকতে পারে। তাই নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের পণ্য বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অনেক বাণিজ্যিক গুঁড়া দুধে অতিরিক্ত চিনি, স্বাদবর্ধক বা সংরক্ষণকারী উপাদান যোগ করা থাকে। বেশি চিনি শিশুদের অতিরিক্ত ওজন, দাঁতের সমস্যা এবং ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই কেনার আগে পণ্যের উপাদান দেখে নেওয়া উচিত।
শুধু গুঁড়া দুধের ওপর নির্ভর না করে শিশুর খাদ্যতালিকায় অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারও রাখা প্রয়োজন। কারণ তাজা দুধে থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান গুঁড়ো দুধে কম থাকতে পারে।
এছাড়া যেসব শিশুর ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে গুঁড়া দুধ খেলে পেট ফাঁপা, পেট ব্যথা বা পাতলা পায়খানার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিকল্প দুধ বেছে নেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গুঁড়া দুধ খাওয়া যেতে পারে, তবে তা যেন সুষম খাদ্যের বিকল্প না হয়। শিশু হোক বা বড়, পরিমিত পরিমাণে এবং বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানের গুঁড়া দুধ ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
আরটিভি/জেএমএ