রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬ , ১১:৩৬ এএম
পৃথিবীর সবচেয়ে আপন সম্পর্কগুলোর একটি হলো ভাইবোনের সম্পর্ক। এই সম্পর্কে যেমন ঝগড়া, অভিমান আর খুনসুটি থাকে, তেমনি থাকে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ভরসা আর আজীবনের বন্ধন। আজ বোন দিবস। তাই ব্যস্ত জীবনের মধ্যেও বোনকে মনে করিয়ে দেওয়ার দিন—সে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
শৈশবের সবচেয়ে মধুর স্মৃতিগুলোর অনেকটাই জড়িয়ে থাকে বোনের সঙ্গে। একটি চকলেট নিয়ে ঝগড়া, টিভির রিমোট নিয়ে তর্ক, মায়ের কাছে আগে নালিশ করার প্রতিযোগিতা—এসব ছোট ছোট মুহূর্তই একসময় হয়ে ওঠে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি। তবে বাইরের কেউ ভাই বা বোনের বিরুদ্ধে কিছু বললে, সবার আগে পাশে দাঁড়ায় সেই বোনই।
অনেক পরিবারে বড় বোন নীরবে অনেক দায়িত্ব পালন করেন। ছোট ভাইবোনের দেখাশোনা, পড়াশোনায় সাহায্য, প্রয়োজনের সময় পাশে থাকা—এসব কাজ তিনি অনেক সময় নিজের অজান্তেই করে যান। নিজের কষ্টের কথা না বললেও পরিবারের সবার জন্য চিন্তা করেন সবসময়।
আবার ছোট বোনও পরিবারের আনন্দের বড় একটি অংশ। অনুমতি ছাড়াই আলমারি থেকে জামা নিয়ে পরা, প্রিয় জিনিস লুকিয়ে রাখা কিংবা ছোটখাটো দুষ্টুমি—এসবই শৈশবকে রঙিন করে তোলে। কিন্তু পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে বা বিপদে পড়লে সেই ছোট বোনই সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পাশে দাঁড়ায়।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অনেক ভাইবোন আলাদা শহর বা দেশে চলে যান। চাকরি, পড়াশোনা কিংবা সংসারের কারণে প্রতিদিনের দেখা আর হয় না। তখন সপ্তাহে একবারের একটি ফোনকল বা ছোট্ট একটি বার্তাই হয়ে ওঠে সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সেতুবন্ধন।
তবে সব সম্পর্ক সবসময় একই রকম থাকে না। ভুল বোঝাবুঝি, অভিমান কিংবা দূরত্ব অনেক সময় সম্পর্ককে মলিন করে দেয়। কিন্তু বোন দিবস মনে করিয়ে দেয়, একটি আন্তরিক ফোনকল কিংবা ছোট্ট একটি বার্তা—তোকে খুব মনে পড়ছে—অনেক দিনের অভিমানও গলিয়ে দিতে পারে।
এই দিনটি উদযাপনের জন্য বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন নেই। বোন পাশে থাকলে একসঙ্গে কিছুটা সময় কাটান, পুরোনো স্মৃতির কথা বলুন। আর দূরে থাকলে আজই একটি ফোন করুন বা একটি বার্তা পাঠান। হয়তো শুধু কেমন আছিস?—এই দুটি শব্দই আবার নতুন করে প্রাণ ফিরিয়ে দিতে পারে সম্পর্কের বন্ধনে।
জীবনের অনেক কিছু সময়ের সঙ্গে বদলে যায়। বদলে যায় ঠিকানা, শহর, ব্যস্ততা। কিন্তু শৈশবের সেই আপন মানুষটি থেকে যায় হৃদয়ের সবচেয়ে কাছের জায়গায়। তাই আজ বোনকে বলুন—তুই ছিলি বলেই আমার শৈশবটা এত সুন্দর ছিল।
আরটিভি/জেএমএ