মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ , ০৮:৫৬ এএম
শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করার বিকল্প নেই। শরীর থেকে যতটা পানি বের হয়ে যায়, তার চেয়ে কম পানি গ্রহণ করলে দেখা দেয় পানিশূন্যতা। সময়মতো এর যত্ন না নিলে এটি গুরুতর শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।
যেভাবে বুঝবেন পানিশূন্যতা হয়েছে
পানিশূন্যতা হলে শরীর কিছু সতর্ক সংকেত দেয়। যেমন—বারবার তৃষ্ণা লাগা, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা, ক্লান্তি, মুখ, ঠোঁট ও জিহ্বা শুকিয়ে যাওয়া, চোখ বসে যাওয়া, গাঢ় হলুদ ও তীব্র গন্ধযুক্ত প্রস্রাব হওয়া কিংবা স্বাভাবিকের তুলনায় কম প্রস্রাব হওয়া।
শিশুদের ক্ষেত্রে মাথার নরম অংশ বসে যাওয়া, কান্নার সময় চোখে পানি না আসা, কম ভেজা কাপড়, অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব বা খিটখিটে আচরণও পানিশূন্যতার লক্ষণ হতে পারে।
কেন হয় পানিশূন্যতা?
বমি বা পাতলা পায়খানা, অতিরিক্ত গরমে দীর্ঘ সময় থাকা, প্রচুর ঘাম হওয়া, জ্বর, অতিরিক্ত মদ্যপান, কিছু ধরনের ওষুধের প্রভাব এবং ডায়াবেটিসের মতো রোগের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। অনেক বয়স্ক মানুষ নিজের প্রয়োজনমতো পানি পান করেন না বলেও এই সমস্যা হতে পারে।
কী করবেন?
পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পর্যাপ্ত তরল পান করা জরুরি। একবারে বেশি পানি পান করতে কষ্ট হলে অল্প অল্প করে বারবার পান করুন। বমি বা পাতলা পায়খানা হলে শরীর থেকে শুধু পানি নয়, প্রয়োজনীয় লবণ ও খনিজও বের হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা ওষুধ বিক্রেতার পরামর্শ অনুযায়ী মুখে খাওয়ার লবণ-পানির দ্রবণ গ্রহণ করা উপকারী হতে পারে।
তবে এই সময় চা, কফি, কোমল পানীয় ও মদ্যপান এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এগুলো শরীরকে আরও বেশি পানিশূন্য করে তুলতে পারে।
শিশুদের যত্নে যা করবেন
শিশু অসুস্থ হলে মায়ের দুধ বা স্বাভাবিক খাবার চালিয়ে যেতে হবে। প্রয়োজন হলে অল্প অল্প করে বারবার পানি বা লবণ-পানির দ্রবণ খাওয়াতে হবে। তবে ছোট শিশুদের ফলের রস বা কোমল পানীয় না দেওয়াই ভালো, কারণ এতে বমি বা পাতলা পায়খানার সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?
পানিশূন্যতা এড়াতে সারাদিন নিয়মিত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। গরম আবহাওয়া, ব্যায়াম, জ্বর, বমি বা পাতলা পায়খানা হলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পানি পান করুন। প্রস্রাবের রং হালকা থাকলে বুঝতে হবে শরীরে পানির পরিমাণ মোটামুটি ঠিক আছে।
এছাড়া তরমুজ, কমলা, শসা, টমেটো, স্যুপসহ বেশি পানি থাকে এমন খাবারও শরীরে পানির ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে।
কারা বেশি সতর্ক থাকবেন?
পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী এবং যারা নিজেরা পানি পান করতে অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, তাদের ক্ষেত্রে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বেশি। তাই পরিবারের সদস্যদের উচিত তাদের নিয়মিত পানি পান করানোর বিষয়ে খেয়াল রাখা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীর সুস্থ রাখতে তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা না করে নিয়মিত পানি পান করা সবচেয়ে ভালো অভ্যাস। কারণ পর্যাপ্ত পানি শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক রাখে, রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে এবং নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সূত্র: এনএইচএস ইউকে
আরটিভি/জেএমএ