বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬ , ১১:০৫ এএম
সম্পর্কের শুরুতেই অতিরিক্ত আদর, অগাধ প্রশংসা, সারাক্ষণ খোঁজ নেওয়া কিংবা ছোট-বড় উপহারে ভরিয়ে দেওয়া—এসবকে অনেকেই গভীর ভালোবাসার প্রকাশ বলে মনে করেন। তবে মনোবিদদের মতে, সব সময় এমনটা নিরাপদ নাও হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এই আচরণের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে মানসিক নিয়ন্ত্রণের একটি কৌশল, যাকে বলা হয় ভালোবাসার ফাঁদ।
ধরা যাক, মাত্র এক মাসের সম্পর্ক। এরই মধ্যে একে-অন্যের প্রশংসায় পঞ্চমুখ, দিন-রাত ফোনে কথা, নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান, ছোট ছোট চমক আর উপহার। চারপাশের মানুষও বলতে শুরু করেন, এটাই বুঝি সত্যিকারের ভালোবাসা। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্কের শুরুতেই যদি সবকিছু খুব দ্রুত এগোতে থাকে, তাহলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
মনোবিদদের ভাষ্য, এমন সম্পর্কে শুরুতে সঙ্গী বারবার বলতে পারেন, তুমিই আমার সব, তোমাকে ছাড়া বাঁচব না—এ ধরনের আবেগঘন কথা। পাশাপাশি সারাক্ষণ যোগাযোগ রাখতে চাওয়া, কোথায় আছেন বা কী করছেন, তা বারবার জানতে চাওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়।
তবে কিছুদিন পর আচরণ বদলে যেতে পারে। তখন শুরু হয় অকারণ সন্দেহ, প্রশ্ন আর অশান্তি। কার সঙ্গে কথা বলছেন, কেন বন্ধুদের সময় দিচ্ছেন কিংবা কোথায় যাচ্ছেন—এসব বিষয় নিয়েই তৈরি হতে পারে চাপ। একসময় নিজের ইচ্ছার চেয়ে সঙ্গীর ইচ্ছাকেই বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করেন অনেকেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ সম্পর্কের সবচেয়ে বড় ভিত্তি হলো ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পারস্পরিক সম্মান। সত্যিকারের ভালোবাসায় কখনও কারও চলাফেরা, পোশাক, বন্ধুত্ব বা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয় না। বরং একে-অন্যের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করা হয়।
অন্যদিকে, ভালোবাসার ফাঁদে ধীরে ধীরে সেই ব্যক্তিগত স্বাধীনতাই কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা দেখা যায়। কখনও অতিরিক্ত ভালোবাসা, আবার হঠাৎ কয়েক দিন কোনো যোগাযোগ না রাখা, এরপর আবার ক্ষমা চেয়ে আগের মতো আদর-যত্ন—এভাবে মানসিক টানাপড়েন তৈরি হয়। এতে অনেকেই অজান্তেই সঙ্গীর ওপর মানসিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।
মনোবিদদের পরামর্শ, সম্পর্কের শুরুতেই যদি সবকিছু অস্বাভাবিক দ্রুত এগোয়, কেউ যদি ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান না করেন, বন্ধু বা পরিবারের কাছ থেকে দূরে রাখতে চান কিংবা বারবার ভালোবাসার প্রমাণ দাবি করেন, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সত্যিকারের ভালোবাসায় ভয় বা লুকোচুরি থাকে না। সেখানে থাকে পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বাস এবং একে-অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ।
আরটিভি/জেএমএ