ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ঘুমের মধ্যে পায়ে টান, কীসের লক্ষণ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
ঘুমের মধ্যে পায়ে টান? জানুন কারণ ও সহজ সমাধান । ছবি: সংগৃহীত

গভীর রাতে হঠাৎ পায়ের পেশিতে তীব্র টান ধরে ঘুম ভেঙে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। কয়েক সেকেন্ড বা কয়েক মিনিটের জন্য পা শক্ত হয়ে যায়, নড়াচড়া করাও কঠিন হয়ে পড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাকে রাতের পায়ের পেশির খিঁচুনি বলা হয়। এটি সাধারণত পায়ের পেছনের পেশিতে বেশি হলেও অনেক সময় উরু বা পায়ের পাতাতেও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটি গুরুতর কোনো রোগের লক্ষণ নয়। তবে বারবার এমন সমস্যা হলে এর কারণ খুঁজে দেখা জরুরি। তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ৬০ জন জীবনের কোনো না কোনো সময় রাতে পায়ে খিঁচুনির সমস্যায় ভোগেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

কেন রাতে পায়ে টান ধরে?

রাতে পায়ে খিঁচুনি ধরার অন্যতম কারণ হলো শরীরে পানির ঘাটতি। এ ছাড়া পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজের অভাবও এ সমস্যার কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, দীর্ঘ সময় একটানা বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা, স্নায়ুর সমস্যা, ডায়াবেটিস, কিডনির রোগ এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও এমন হতে পারে।

দিনভর কাজের পর পেশি ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ঘুমের সময় শরীর শিথিল থাকায় অনেক সময় পেশি হঠাৎ সংকুচিত হয়ে যায়। বিশ্রামের সময় রক্ত চলাচল কিছুটা কমে যাওয়ায় পেশিতে অক্সিজেনের সরবরাহও কমতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশি ও হাড়ের সংযোগকারী টিস্যু শক্ত হয়ে যাওয়াও এই সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।

আরও পড়ুন

দ্রুত আরাম পেতে যা করবেন

পায়ে টান ধরলে ধীরে ধীরে আক্রান্ত পেশি টানটান করে প্রসারিত করুন। পায়ের আঙুল নিজের দিকে টেনে ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড ধরে রাখলে পেশি শিথিল হতে সাহায্য করে।

আক্রান্ত স্থানে গরম পানির সেঁক দিলে বা গরম প্যাড ব্যবহার করলে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং ব্যথা কমতে পারে। হালকা হাতে মালিশ করলেও অনেক সময় দ্রুত আরাম মেলে।

কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?

এ সমস্যা এড়াতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। খাদ্যতালিকায় পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার রাখুন। অতিরিক্ত কফি ও মদ্যপান কমানোও উপকারী।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রাতে ঘুমানোর আগে কয়েক মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করলে পেশি নমনীয় থাকে। দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে বা দাঁড়িয়ে না থেকে মাঝেমধ্যে হাঁটাচলা করুন। আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করুন এবং অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

যদি ঘন ঘন পায়ে টান ধরে, ব্যথা দীর্ঘ সময় থাকে, পা ফুলে যায়, দুর্বলতা দেখা দেয় বা দৈনন্দিন কাজে সমস্যা সৃষ্টি হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ, কিছু ক্ষেত্রে এটি ডায়াবেটিস, স্নায়ুর সমস্যা বা অন্য কোনো শারীরিক রোগের লক্ষণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাপনে কিছু সহজ পরিবর্তন এবং সঠিক যত্ন নিলেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রাতের পায়ের খিঁচুনি বা টান থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
গর্ভাবস্থায় ‘ভুলে যাওয়া সমস্যার’ রহস্য খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা 
গর্ভাবস্থায় অনেক নারী হঠাৎ কিছু বিষয় ভুলে যাওয়ার সমস্যায় পড়েন।
গর্ভাবস্থায় ‘ভুলে যাওয়া সমস্যার’ রহস্য খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা 
জেনে নিন ইসবগুল খাওয়ার উপকারিতা
কোষ্ঠকাঠিন্য হলেই অনেকের মনে পড়ে ইসবগুলের ভুসির কথা। পানিতে মিশিয়ে খাওয়া পরিচিত এই খাবারটি দীর্ঘদিন ধরে পেট পরিষ্কার রাখতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে ইসবগুলের উপকারিতা শুধু কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
জেনে নিন ইসবগুল খাওয়ার উপকারিতা
বোটক্স নেওয়ার আগে জানুন স্নায়ুর এই ঝুঁকিগুলো
বয়সের ছাপ কমানো থেকে শুরু করে মাইগ্রেনের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ—বিভিন্ন কারণে বোটক্স ব্যবহার করা হয়।
বোটক্স নেওয়ার আগে জানুন স্নায়ুর এই ঝুঁকিগুলো
শুয়ে থাকলেই পা নাড়ানোর ইচ্ছা? আজ সচেতন হওয়ার দিন
রাতে বিছানায় শুয়ে আছেন, কিন্তু পায়ে কেমন যেন অস্বস্তি হচ্ছে।
শুয়ে থাকলেই পা নাড়ানোর ইচ্ছা? আজ সচেতন হওয়ার দিন
শিয়ালের মাংস, তক্ষক ও জোঁকের তেল, রোগ সারানোর সত্যতা কতটা?
শিয়ালের মাংস খেলে বাতের ব্যথা সারে, তক্ষক খেলে হাঁপানি থেকে যৌনক্ষমতা নানা রোগের চিকিৎসা হয়, আবার জোঁকের তেল নাকি সারিয়ে দেয় বাত-ব্যথা ও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রয়েছে এমন নানা লোকবিশ্বাস। তবে এসব দাবির পেছনে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি কতটা?
শিয়ালের মাংস, তক্ষক ও জোঁকের তেল, রোগ সারানোর সত্যতা কতটা?