ঘুমের মধ্যে পায়ে টান, কীসের লক্ষণ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ , ১২:৪৬ পিএম


ঘুমের মধ্যে পায়ে টান, কীসের লক্ষণ?
ঘুমের মধ্যে পায়ে টান? জানুন কারণ ও সহজ সমাধান । ছবি: সংগৃহীত

গভীর রাতে হঠাৎ পায়ের পেশিতে তীব্র টান ধরে ঘুম ভেঙে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। কয়েক সেকেন্ড বা কয়েক মিনিটের জন্য পা শক্ত হয়ে যায়, নড়াচড়া করাও কঠিন হয়ে পড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাকে রাতের পায়ের পেশির খিঁচুনি বলা হয়। এটি সাধারণত পায়ের পেছনের পেশিতে বেশি হলেও অনেক সময় উরু বা পায়ের পাতাতেও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটি গুরুতর কোনো রোগের লক্ষণ নয়। তবে বারবার এমন সমস্যা হলে এর কারণ খুঁজে দেখা জরুরি। তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ৬০ জন জীবনের কোনো না কোনো সময় রাতে পায়ে খিঁচুনির সমস্যায় ভোগেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

কেন রাতে পায়ে টান ধরে?

রাতে পায়ে খিঁচুনি ধরার অন্যতম কারণ হলো শরীরে পানির ঘাটতি। এ ছাড়া পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজের অভাবও এ সমস্যার কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, দীর্ঘ সময় একটানা বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা, স্নায়ুর সমস্যা, ডায়াবেটিস, কিডনির রোগ এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও এমন হতে পারে।

দিনভর কাজের পর পেশি ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ঘুমের সময় শরীর শিথিল থাকায় অনেক সময় পেশি হঠাৎ সংকুচিত হয়ে যায়। বিশ্রামের সময় রক্ত চলাচল কিছুটা কমে যাওয়ায় পেশিতে অক্সিজেনের সরবরাহও কমতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশি ও হাড়ের সংযোগকারী টিস্যু শক্ত হয়ে যাওয়াও এই সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।

আরও পড়ুন

দ্রুত আরাম পেতে যা করবেন

পায়ে টান ধরলে ধীরে ধীরে আক্রান্ত পেশি টানটান করে প্রসারিত করুন। পায়ের আঙুল নিজের দিকে টেনে ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড ধরে রাখলে পেশি শিথিল হতে সাহায্য করে।

আক্রান্ত স্থানে গরম পানির সেঁক দিলে বা গরম প্যাড ব্যবহার করলে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং ব্যথা কমতে পারে। হালকা হাতে মালিশ করলেও অনেক সময় দ্রুত আরাম মেলে।

কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?

এ সমস্যা এড়াতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। খাদ্যতালিকায় পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার রাখুন। অতিরিক্ত কফি ও মদ্যপান কমানোও উপকারী।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রাতে ঘুমানোর আগে কয়েক মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করলে পেশি নমনীয় থাকে। দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে বা দাঁড়িয়ে না থেকে মাঝেমধ্যে হাঁটাচলা করুন। আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করুন এবং অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

যদি ঘন ঘন পায়ে টান ধরে, ব্যথা দীর্ঘ সময় থাকে, পা ফুলে যায়, দুর্বলতা দেখা দেয় বা দৈনন্দিন কাজে সমস্যা সৃষ্টি হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ, কিছু ক্ষেত্রে এটি ডায়াবেটিস, স্নায়ুর সমস্যা বা অন্য কোনো শারীরিক রোগের লক্ষণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাপনে কিছু সহজ পরিবর্তন এবং সঠিক যত্ন নিলেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রাতের পায়ের খিঁচুনি বা টান থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission