images

পরামর্শ

টক্সিক বন্ধু ও সহকর্মী চিনে দূরত্ব বজায় রাখার উপায়

রোববার, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৩:১৬ পিএম

আমাদের চারপাশে—ক্লাস, অফিস কিংবা পাড়া-মহল্লায়—নানা ধরনের মানুষের বসবাস। এদের মধ্যে অনেকের সান্নিধ্য যেমন আমাদের অনুপ্রাণিত করে, তেমনি কিছু মানুষের নেতিবাচক আচরণ আমাদের মানসিক প্রশান্তি নষ্ট করে দেয়। সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় এদের বলা হয় ‘টক্সিক’ বা বিষাক্ত মানুষ।

নিজের মন ও মেজাজ ভালো রাখতে এ ধরনের মানুষকে চিনে নেওয়া এবং তাদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তবে বন্ধু বা সহকর্মীদের ভিড়ে এমন মানুষকে চেনা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে, তাই সচেতন থাকা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টক্সিক মানুষের নেতিবাচক প্রভাব থেকে বাঁচতে সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হলো নিজের জন্য একটি সীমারেখা বা ‘বাউন্ডারি’ নির্ধারণ করা। আপনি কার সঙ্গে কতটুকু মিশবেন বা কে আপনার সাথে কতটুকু ঘনিষ্ঠ হতে পারবে, তার সিদ্ধান্ত আপনারই।

কেউ যদি আপনার সাথে দুর্ব্যবহার করে বা আপনাকে ছোট করার চেষ্টা করে, তবে তা শুরুতেই রুখে দেওয়া উচিত। প্রথম থেকেই নিজের অবস্থানের বিষয়ে স্পষ্ট থাকলে এই ধরনের মানুষেরা আপনার ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করার সাহস পাবে না।

মনে রাখতে হবে, টক্সিক বন্ধু বা আত্মীয়ের নেতিবাচক আচরণ মেনে নেওয়া মানে নিজেকে আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করা।

টক্সিক মানুষের একটি অন্যতম স্বভাব হলো অন্যের সব কাজে খুঁত ধরা। তাদের এই নেতিবাচক আচরণের প্রভাব নিজের ওপর পড়তে না দেওয়া এবং সবসময় ইতিবাচক থাকা জরুরি। তারা আপনাকে নিয়ে কী ভাবল বা আপনার সম্পর্কে কী নিন্দা করল, সেদিকে কান না দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

আরও পড়ুন
84151515

তরুণদের অসুখী হওয়ার কারণ কী?

তাদের অহেতুক সমালোচনাকে পাত্তা দিলে আপনার সময় ও মানসিক শ্রম—উভয়ই নষ্ট হবে। এর বদলে নিজের আত্মবিশ্বাস বজায় রাখা এবং নিজের কাজে মনোযোগী হওয়া আপনাকে এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে পারে।

টক্সিক মানুষদের সামলানোর আরেকটি বড় কৌশল হলো শান্ত থাকা। তারা প্রায়ই উসকানিমূলক কথা বলে আপনাকে উত্যক্ত করার চেষ্টা করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মেজাজ না হারিয়ে বরং তাদের এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।

এ ধরনের মানুষের সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য, কোনো সাফল্যের খবর বা আনন্দের ঘটনা শেয়ার না করাই ভালো। তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় যতটা সম্ভব সংক্ষিপ্ত ও আনুষ্ঠানিক বজায় রাখুন।

মনে রাখবেন যতো কম তথ্য তারা আপনার সম্পর্কে জানবে, ততোই তারা আপনাকে মানসিকভাবে আঘাত করার সুযোগ কম পাবে। এভাবে সচেতনভাবে নিজেকে গুছিয়ে নিলে টক্সিক মানুষের বিষক্রিয়া থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।

আরটিভি/এএইচ