সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৫:৪৫ পিএম
তিন মন ওজনের দামোদর শেঠের কাছে ভুঁড়ি গর্বের বিষয় হতে পারে, কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বড় ভুঁড়ি মানেই বড় বিপদ।
আমরা অনেকেই মনে করি একটি ‘নাদুসনুদুস’ ভুঁড়ি সুখী মানুষের লক্ষণ, কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রায় সেই সুখের আড়ালেই লুকিয়ে থাকতে পারে কঠিন সব অসুখ। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারী-পুরুষ উভয়েরই পেটে মেদ জমতে শুরু করে।
কারো মেদ জমে তলপেটে, আবার কারো সারা পেট জুড়ে ঢাউস আকৃতির ভুঁড়ি দেখা যায়। তবে সব ভুঁড়ি সমান নয়; পেটের মেদ মূলত দুই ধরণের হয়— নরম ও শক্ত।
চিকিৎসকদের মতে, এই দুই ধরণের মেদের মধ্যে কোনটি আপনার শরীরে বাসা বাঁধছে, তার ওপর নির্ভর করছে আপনার সুস্থতা।
চিকিৎসকদের মতে, পেটে জমা শক্ত মেদ নরম মেদের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক।
দিল্লির প্রখ্যাত চিকিৎসক শুভম বাৎস্য সম্প্রতি এক সচেতনতামূলক বার্তায় জানিয়েছেন, পেটের যে অংশটি হাত দিলে পাথরের মতো শক্ত লাগে, তা আসলে ‘ভিসেরাল ফ্যাট’-এর ইঙ্গিতবাহী।
ভিসেরা বলতে আমাদের শরীরের অভ্যন্তরের নরম প্রত্যঙ্গ যেমন লিভার, অগ্ন্যাশয়, হৃৎপিণ্ড এবং ফুসফুসকে বোঝায়। যখন এই অঙ্গগুলোর ওপর চর্বির আস্তরণ জমতে শুরু করে, তখনই পেট শক্ত হয়ে যায়।
এই ভিসেরাল ফ্যাট শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং বিপাকক্রিয়ার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে, যা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
অন্যদিকে, পেটের যে মেদ হাত দিলে নরম বা থলথলে অনুভূত হয়, তা তুলনামূলক কম ক্ষতিকর। এই ধরণের চর্বি মূলত চামড়ার ঠিক নিচেই জমে থাকে এবং একে ‘সাবকিউটেনিয়াস ফ্যাট’ বলা হয়। এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর সরাসরি ক্ষতি করে না বা বিপাকহারে তেমন নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না।
তবে ভুঁড়ি নরম হোক বা শক্ত, পাকস্থলীর উপরিভাগ যদি চাপ দিলে শক্ত অনুভূত হয়, তবে তা অবশ্যই বিপদের সংকেত হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। কারণ ভিসেরাল ফ্যাট কেবল মেদ বাড়ায় না, এটি শরীর থেকে প্রদাহনাশক রাসায়নিক নির্গত করে যা মানসিক দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়।
এই ধরণের মেদ বা ফ্যাট জমার সবচেয়ে বড় কুফল হলো এটি ইনসুলিন হরমোনের কাজে বাধা দেয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে টাইপ-টু ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে।
এছাড়া ফ্যাটি লিভারের মতো সমস্যা তো রয়েছেই।
তাই সুস্থ থাকতে কেবল ওজন কমানোর দিকে নজর দিলেই চলবে না, নিয়মিত নিজের ভুঁড়িটি পরখ করাও জরুরি।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ এবং নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমই পারে মধ্যপ্রদেশের এই বিপজ্জনক মেদ জমা আটকাতে। সময় থাকতে সতর্ক না হলে এই সাধের ভুঁড়িই হতে পারে অকাল মৃত্যুর কারণ।
আরটিভি/এএইচ