শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৩:১১ পিএম
শীতের শেষ দিকে শিশুদের ঠান্ডা লাগা বা সর্দি-কাশি থেকে বাঁচাতে অভিভাবকরা ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েন। সোনামণিকে সুরক্ষিত রাখতে অনেক সময় একের পর এক গরম কাপড় পরিয়ে দেওয়া হয়।
তবে চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত পোশাক পরানো সবসময় সুরক্ষা নিশ্চিত করে না, বরং এটি শিশুর অস্বস্তি ও অসুস্থতার কারণ হতে পারে।
তাই শীতে শিশুকে পোশাক পরানোর ক্ষেত্রে সচেতন হওয়া এবং সঠিক নিয়ম মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।
শিশুদের বিপাকহার বেশি এবং শরীরে থাকা ‘ব্রাউন ফ্যাট’ প্রাকৃতিকভাবেই তাদের শরীর উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে। তাই শিশুর ঠান্ডা লাগছে না কি অতিরিক্ত গরমে সে ঘেমে যাচ্ছে, তা বুঝতে হবে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে।
শিশুর গলা, বুক বা পেটে হাত দিয়ে যদি ঠান্ডা মনে হয়, তবেই বুঝতে হবে বাড়তি পোশাক প্রয়োজন। আবার শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলে অতিরিক্ত কাপড়ের দরকার নেই।
তবে শিশু যদি ঘামতে শুরু করে বা মুখ লাল হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে তাকে অতিরিক্ত পোশাক পরানো হয়েছে এবং দ্রুত কিছু কাপড় খুলে দিয়ে তাকে আরামদায়ক অবস্থায় আনতে হবে।
পোশাক পরানোর ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা ‘লেয়ারিং’ বা স্তরে স্তরে পোশাক পরানোর পরামর্শ দেন। শিশুর ত্বকের সংস্পর্শে থাকা প্রথম পোশাকটি অবশ্যই সুতির হতে হবে, কারণ সরাসরি উলের কাপড় পরানো হলে র্যাশ বা চুলকানি হতে পারে।
ঘরের ভেতরে খুব বেশি শীত না থাকলে টুপি বা মোজা পরানোর প্রয়োজন নেই, তবে বাইরে বেরোনোর সময় সুতির টুপি বা হালকা স্কার্ফ ব্যবহার করা যেতে পারে।
পাশাপাশি শীতকালেও শিশুকে নিয়মিত গোসল করানো এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। গোসলের আগে তেলমালিশ শরীর উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে।
এছাড়া ফল খেলে ঠান্ডা লাগে—এমন ভুল ধারণা ত্যাগ করে শিশুকে ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ খাবার, পর্যাপ্ত পানি এবং নিয়মিত রোদে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে শীতকালীন সংক্রমণের ঝুঁকি কমিয়ে সুস্থ রাখা সম্ভব।
আরটিভি/এএইচ