শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ , ১০:৫৬ পিএম
ঈদের আগে শপিংমলগুলোতে পা রাখলেই সবার আগে চোখে পড়বে নতুন ডিজাইন, রঙ আর অফারের। পরিকল্পনা অনুযায়ী কেনাকাটা করা এখন অনেকটাই কঠিন ব্যাপার। অনেক ক্ষেত্রে বাড়ি এসে টের পাওয়া যায় যে- বাজেট ছাড়িয়েছে, অথচ প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস হয়তো এখনও কেনাই হয়নি। এই চক্র থেকে বের হতে ছোট্ট একটি অভ্যাসই যথেষ্ট, আর তা হলো শপিং লিস্ট।
ভোক্তা আচরণ নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে, উৎসবের সময় ইমপালসিভ ও আবেগী কেনাকাটা বেড়ে যায়। কারণ, আবেগ ও তাৎক্ষণিক আকর্ষণ অনেক সময় পরিকল্পিত সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। তাই আগে থেকে পরিকল্পনা করলে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমে এবং কেনাকাটার সন্তুষ্টি বাড়ে।
ঈদের পোশাক কেনার ক্ষেত্রে শপিং লিস্ট এর প্রয়োজনীয়তা--
বাজেট নিয়ন্ত্রণে থাকে
ঈদের সময় পোশাকের পাশাপাশি জুতা, ব্যাগ, গয়না - সবকিছুরই চাহিদা থাকে। তাই কোন খাতে কত টাকা ব্যয় করবেন সেটা আগে থেকে ঠিক করে নিলে অতিরিক্ত খরচের ঝুঁকি কমে। তালিকায় অগ্রাধিকার নির্ধারণ করলে প্রলোভনে পড়ে বাজেট ভাঙার সম্ভাবনা কম থাকে।
প্রয়োজনীয় জিনিস বাদ পড়ে না
অনেক সময় মূল পোশাক কিনে ফেললেও প্রয়োজনীয় অ্যাকসেসরিজ বা টেইলরিংয়ের বিষয়টি আমরা ভুলে যাই। লিস্টে আলাদা করে লিখে রাখলে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ যায় না।
সময় ও শক্তি বাঁচে
ঈদের আগে মার্কেটের ভিড় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। কী কিনবেন তা স্পষ্ট থাকলে অযথা দোকান ঘোরা কম হয়। এতে শারীরিক ক্লান্তিও কমে, বিশেষ করে রোজার সময়।
মিলিয়ে কেনা সহজ হয়
কোন রঙের সঙ্গে কী মানাবে, আগে থেকে ভাবলে দোকানে গিয়ে বিভ্রান্তি কম হয়। ফোনে আগের পোশাকের ছবি রেখে লিস্টের সঙ্গে মিলিয়ে নিলে অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি এড়ানো যায়।
মানসিক স্বস্তি বাড়ে
অনেক বিকল্পের ভিড়ে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে ক্লান্তি আসে। আচরণগত অর্থনীতি বলছে, বেশি সিদ্ধান্ত মানেই বেশি মানসিক চাপ। লিস্ট থাকলে সিদ্ধান্ত দ্রুত হয়, অস্থিরতা কমে।
ঈদের আনন্দ সবার ক্ষেত্রেই হওয়া উচিৎ পরিকল্পিত। তাই ঈদে হুটহাট কেনাকাটা নয়, সচেতন সিদ্ধান্তই দিতে পারে আর্থিক স্বস্তি ও মানসিক শান্তি।
আরটিভি/এমআই