রোববার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ১০:০০ পিএম
মানবদেহের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান আয়োডিন, যা থাইরয়েড হরমোন উৎপাদন এবং মস্তিষ্কের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশে এক সময় আয়োডিনের ঘাটতি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে থাকলেও বর্তমানে সর্বজনীন লবণ আয়োডিনকরণ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
তবে চিকিৎসকদের মতে, এখনো দেশ থেকে আয়োডিনের ঘাটতি পুরোপুরি নির্মূল হয়নি এবং এর জন্য সচেতনতার অভাব ও সঠিক ব্যবহারের নিয়ম না জানাই প্রধানত দায়ী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আয়োডিনের ঘাটতি হলে গলগণ্ড, বুদ্ধিমত্তার বিকাশে বাধা, গর্ভকালীন জটিলতা এবং শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বর্তমানে এই ঘাটতির অন্যতম কারণ হলো লবণে আয়োডিনের সঠিক মানের অভাব এবং রান্নার ভুল পদ্ধতি।
অনেক সময় লবণে আয়োডিনের পরিমাণ কম থাকে অথবা ভুলভাবে সংরক্ষণের ফলে তা নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এখনো খোলা বা অপরিশোধিত লবণ ব্যবহারের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
আয়োডিনের ঘাটতি প্রতিরোধে বাজারে বিক্রি হওয়া সব ভোজ্য লবণে নির্ধারিত মাত্রায় আয়োডিন আছে কি না, তা নিয়মিত নজরদারি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রচার চালানো জরুরি।
বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে আয়োডিনের গুরুত্ব সম্পর্কে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে হবে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভেতরে থাইরয়েড সংক্রান্ত স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালু করা গেলে এই সমস্যা আরও দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
দৈনন্দিন জীবনে লবণের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে চিকিৎসকরা বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন। আয়োডিনযুক্ত লবণ সবসময় ঢাকনাযুক্ত পাত্রে সংরক্ষণ করা উচিত যাতে এর গুণাগুণ বজায় থাকে। এছাড়া রান্নার একদম শেষের দিকে লবণ ব্যবহার করলে আয়োডিনের অপচয় সবচেয়ে কম হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম জানান, সরকার, খাদ্যশিল্প এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আয়োডিনের ঘাটতি সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থতা নিশ্চিত করবে।
আরটিভি/এএইচ