images

জাতীয় / অর্থনীতি

৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দিলো সরকার 

বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:১৩ পিএম

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশের বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাত সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। 

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী মোট তিনটি বিদেশি কোম্পানি থেকে ১ লাখ টন করে এই ডিজেল ক্রয় করা হবে। অনুমোদিত কোম্পানিগুলো হলো— ইয়ার এনার্জি এজি, কে অ্যান্ড আর ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং কোম্পানি এবং সিকদার ইন্টারন্যাশনাল।

সাধারণত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি করলেও এবারের প্রক্রিয়াটি হবে সরাসরি। সরকারি সূত্রমতে রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি গণখাতে ক্রয় আইন ২০০৬ এবং ক্রয় বিধি ২০০৮-এর বিশেষ বিধান অনুযায়ী আইনত বৈধ।

আরও পড়ুন
dollers

চলতি মূলধন হিসেবে ৮ শতাংশ সুদে অফশোর ডলার ঋণ পাবেন রপ্তানিকারকরা

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের সিদ্ধান্ত অনুসারে বিপিসি তাদের চাহিদার ৫০ শতাংশ ‘জিটুজি’ (সরকার টু সরকার) পদ্ধতিতে এবং বাকি ৫০ শতাংশ আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সংগ্রহ করে। তবে বর্তমান বিশেষ পরিস্থিতিতে সেই প্রথা ভেঙে দ্রুত জ্বালানি নিশ্চিত করার পথ বেছে নিল সরকার। সংগৃহীত এই তেল মূলত ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি-তে প্রক্রিয়াজাত করা হবে।

মূলত জ্বালানি আমদানির এই জরুরি সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করছে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল ভূরাজনীতি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পরিবহন খরচ ও প্রিমিয়াম রেটে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় অনেক রপ্তানিকারক দেশ তেল সরবরাহ সীমিত করে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ মজুত ঠিক রাখতে এবং সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করতেই মন্ত্রিসভা কমিটি এই দ্রুত আমদানির সবুজ সংকেত দিয়েছেলল

আরটিভি/এআর