চলতি মূলধন হিসেবে ৮ শতাংশ সুদে অফশোর ডলার ঋণ পাবেন রপ্তানিকারকরা

আরটিভি নিউজ

বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬ , ০৯:০৭ পিএম


চলতি মূলধন হিসেবে ৮ শতাংশ সুদে অফশোর ডলার ঋণ পাবেন রপ্তানিকারকরা
ফাইল ছবি

অর্থায়ন ব্যয় কমানো এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে রপ্তানিকারকদের অফশোর ডলার ঋণগ্রহণের ক্ষেত্রে সুদের হার প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রস্তাবিত এই স্কিমের আওতায়, ৮ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে পারবেন রপ্তানিকারকরা, যা বর্তমানে স্থানীয় মুদ্রা বা টাকায় নেওয়া ঋণের ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ সুদের তুলনায় অনেক  কম। শিগগিরই এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করে কার্যক্রমের কাঠামো জানানো হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রপ্তানিকারকরা দৈনন্দিন ব্যবসায়িক খরচ—যেমন বিদ্যুৎ বিল, শ্রমিকের মজুরি এবং অন্যান্য কার্যকর মূলধনের চাহিদা—মেটাতে এই ঋণ ব্যবহার করতে পারবেন। ঋণ পরিশোধ করতে হবে রপ্তানি আয়ের বৈদেশিক মুদ্রা থেকে, ফলে দেশীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে।

আরও পড়ুন

এছাড়া, ঋণগ্রহীতা রপ্তানিকারক প্রয়োজনে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে ঋণের ডলার সোয়াপ করেও টাকা নিতে পারবেন। এজন্য তাকে বাড়তি সুদ গুণতে হবে না।

নীতিনির্ধারকদের মতে, এ ধরনের সুবিধা রপ্তানিকারকদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াবে। এর ফলে, আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের রপ্তানি প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমবে।

উদাহরণস্বরূপ; একজন রপ্তানিকারকের কাছে ১০০ ডলার রপ্তানি অর্ডার থাকলে—তিনি যদি কাঁচামাল আমদানির জন্য ৬০ ডলারের এলসি খুলে থাকেন, তাহলে অফশোর ব্যাংকিং থেকে তিনি সর্বোচ্চ ৪০ ডলার ঋণ নিতে পারবেন। ঋণের এই অর্থ তিনি ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, কর্মীদের বেতন-ভাতাসহ ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বাবদ ব্যয় করতে পারবেন। ঋণগ্রহীতা ডলারে কিংবা সোয়াপ করে টাকা নিলেও ঋণ পরিশোধ হবে তার রপ্তানি প্রসিড থেকে বৈদেশিক মুদ্রায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকগুলো তাদের গ্রাহকের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে এই ঋণ বিতরণ করতে পারবে। ঋণের মেয়াদ হবে তিন মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত। এই বাইরে ব্যাংকগুলোকে ঋণের সীমা বা অন্য কোন শর্তারোপ করা হবে না। ফলে, গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী ব্যাংকগুলো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে এই ধরণের ঋণ নেওয়ার সুযোগ আছে, তবে তা দেশীয় মুদ্রায় বা টাকায় নিতে হয় এবং এর সুদহার ১৪ শতাংশ বা তার বেশি। ৮ শতাংশ সুদে অফশোর ব্যাংকিং থেকে ঋণ নেওয়ার সুবিধা দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো, রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তাদের সহযোগিতা করা।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচির শর্তের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ)-এর আকার ৭ বিলিয়ন থেকে কমিয়ে ২.২ বিলিয়ন ডলার করেছে। ফলে, রপ্তানিকারকদের জন্য স্বল্পসুদে বৈদেশিক মুদ্রা ঋণ নেওয়ার বিদ্যমান সুযোগ অনেকটাই কমে গেছে। সেইসঙ্গে বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়া এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে রপ্তানিকারকরা চাপের মধ্যে আছেন। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন এই সুবিধা তাদের তারল্য বাড়াবে, অর্থায়ন ব্যয় কমাবে এবং বিনিয়োগে উৎসাহ দেবে। তবে, বিশেষজ্ঞরা ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, রপ্তানি আয় দেশে না এলে ঋণ আদায় কঠিন হয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি, বিনিময় হার ওঠানামার কারণে টাকার অবমূল্যায়ন হলে ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়ে যেতে পারে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission