শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬ , ০৮:০৭ পিএম
মহান মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অতীতের মতো এখনো ষড়যন্ত্র চলছে। ১২ তারিখের অপচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তারা নতুন করে বাংলাদেশকে বন্ধুহীন করার চেষ্টা করছে। তবে বিশ্ববাসী জানে এই সরকার জনগণের নির্বাচিত।
শুক্রবার (১ মে) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনে শ্রমিকদের ৭২ জন শহীদ হয়েছেন। তাদের স্মরণ করছি। তিনি অভিযোগ করেন, স্বৈরাচারের সময় স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাত ধ্বংস করার মাধ্যমে শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। ২০২৪ সালে মানুষ স্বৈরাচারকে বিদায় দিয়েছে। এখন দেশ গড়বার পালা।
বিএনপি জনগণের সরকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক মাস আগে নির্দেশনা দিয়েছি, কত দ্রুত আমরা কলকারখানা চালু করতে পারব। এই সপ্তাহে আবার মিটিং করব।
বাংলাদেশের যেসব কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, পর্যায়ক্রমে চালু করব। এর বাইরে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। বিদেশেও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
শ্রমিক ও কৃষকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শ্রমিক-কৃষকরা ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। সাধারণ খেটেখাওয়া মানুষ ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে।
হকারদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যানজট ও দুর্ভোগের কারণে হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে। তারা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা করতে পারেন, আমরা সেই উদ্যোগ নিয়েছি এরই মধ্যে।
তারেক রহমান বলেন, আড়াই বছর আগে ৩১ দফা দিয়েছিলাম, কিভাবে আমরা দেশ মেরামত করতে চাই। এখানে প্রত্যেক মানুষের কথা আছে। এই সরকার কী করতে চায়, তার বিবরণ ৩১ দফায় আছে। সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গেই আমরা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করছি। কৃষি ঋণ মওকুফ করেছি, কৃষক কার্ড দিয়েছি।
খাল খনন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, খাল খনন শুরু করেছি। এটি কৃষক ভাইদের সেচ, মানুষের পানির চাহিদা পূরণ করবে। সময় এসেছে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে পারলে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।
হকারদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যানজট ও দুর্ভোগের কারণে হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে। তারা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা করতে পারেন, আমরা সেই উদ্যোগ নিয়েছি এরই মধ্যে।
তারেক রহমান বলেন, আড়াই বছর আগে ৩১ দফা দিয়েছিলাম, কিভাবে আমরা দেশ মেরামত করতে চাই। এখানে প্রত্যেক মানুষের কথা আছে। এই সরকার কী করতে চায়, তার বিবরণ ৩১ দফায় আছে। সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গেই আমরা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করছি। কৃষি ঋণ মওকুফ করেছি, কৃষক কার্ড দিয়েছি।
এ সময় তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান যেমন নতুন কুঁড়ি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিভাবানদের তুলে আনতেন, আমরাও সে কাজ শুরু করছি।
তিনি জানান, যখনই বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পক্ষে যাত্রা শুরু করেছিল, ধীরে ধীরে দেশ ‘ইমার্জিং টাইগার’ খ্যাতি পেয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, অতীতের মতো ষড়যন্ত্র চলছে। ১২ তারিখ যখন তারা সফল হয়নি, তখন তারা নতুন করে ষড়যন্ত্র করছে। তারা চেষ্টা করছে বাংলাদেশকে বন্ধুহীন করতে। কিন্তু বিশ্ব দরবার দেখছে, এই সরকার জনগণের নির্বাচিত। আমাদের বিশ্ব দরবারের সুযোগ গ্রহণ করতে হবে।
সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। সবাইকে সজাগ হতে হবে। জেগে উঠতে হবে।
বিগত আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, নয়াপল্টনকেন্দ্রিক যেসব কর্মসূচি হয়েছে, সেসব কর্মসূচিতে বিগত স্বৈরাচার সরকারের হামলা হয়েছে। এ সময় নয়াপল্টনের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী প্রমুখ।
আরটিভি/এমআই