মহান মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় সাংবাদিক নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, দেশের সংবাদকর্মীরা বর্তমানে চরম বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। শুক্রবার (১ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এই সভায় প্রধান বক্তারা সাংবাদিকদের অধিকার ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।
বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অধিকাংশ মিডিয়া হাউস ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদান না করলেও, সরকারি বিজ্ঞাপন পাওয়ার সুবিধার্থে ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে। এই দ্বিমুখী আচরণের বিরুদ্ধে ইউনিয়নকে রাজপথে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বক্তারা স্মরণ করিয়ে দেন যে, আধুনিক সভ্যতা শ্রমিকের ঘামের ওপর দাঁড়িয়ে। কাদের গনি চৌধুরী বলেন, বিলাসবহুল অট্টালিকা থেকে শুরু করে তাজমহল কিংবা দুবাইয়ের ‘মিউজিয়াম অব দ্য ফিউচার’, সবই শ্রমিকের অবদানের ফসল।
পোশাক খাতে কিছু অগ্রগতি হলেও অনানুষ্ঠানিক খাতের বিশাল এক শ্রমিক গোষ্ঠী এখনো নিরাপত্তার বাইরে। সড়ক দুর্ঘটনা ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি ও কঠোর আইন প্রয়োগের বিকল্প নেই।
যুগান্তর সম্পাদক ও কবি আবদুল হাই শিকদার তার বক্তব্যে দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ টাইমস, বিচিত্রা ও আনন্দ বিচিত্রা বন্ধ করে দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে এই চারটি প্রভাবশালী গণমাধ্যম বন্ধ করায় অন্তত ১৫০০ সাংবাদিক বেকার হয়েছেন।
ভিন্নমতের সাংবাদিকদের প্রাধান্য থাকায় তৎকালীন সরকার এগুলো বন্ধ করেছিল। সাংবাদিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এই পত্রিকাগুলো পুনরায় চালু করা এখন সময়ের দাবি।
বিএফইউজে সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীনের সভাপতিত্বে সভায় সাংবাদিক নেতারা কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও মালিকপক্ষের প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন দাবি করেন। তারা বলেন, শুধু আশ্বাসে কাজ হবে না; শ্রমিকের জীবনের নিরাপত্তা ও সঠিক পারিশ্রমিক নিশ্চিত করতে প্রমাণভিত্তিক গবেষণা ও অংশীজনদের অংশগ্রহণ জরুরি।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম। এতে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আরটিভি/এমআই



