শনিবার, ০৯ মে ২০২৬ , ১২:২৮ পিএম
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বুকে নিয়ে হাসিমুখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দেশ ছেড়েছিলেন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। বাবা-মায়ের চোখজুড়ে ছিল গর্ব, পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে মেয়েটি একদিন অনেক সাফল্য নিয়ে দেশে ফিরবেন। কিন্তু নিয়তির নির্মমতায় সেই একই বিমানবন্দরেই এবার ফিরল বৃষ্টির নিথর দেহ। যে মেয়েকে একদিন জীবনের নতুন অধ্যায়ে পাঠানো হয়েছিল স্বপ্ন নিয়ে, আজ তাকে কফিনবন্দি অবস্থায় গ্রহণ করতে হলো পরিবারকে।
শনিবার (৯ মে) যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ বিশেষায়িত সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে মাদারীপুরের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মরদেহবাহী গাড়িটি গ্রামের বাড়ির পথে রওনা দেয়।
এ সময় বৃষ্টির বাবা, মা, ভাই, মামা, নানা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। স্বজনদের অনেককে কান্নায় ভেঙে পড়েন, কেউ কেউ কফিন ছুঁয়ে শেষবারের মতো বৃষ্টিকে বিদায় জানান। কফিন গ্রহণের পর মায়ের আহাজারি থামছিলই না। বারবার তিনি কাঁদতে কাঁদতে মেয়ের নাম ধরে ডাকছিলেন।
এর আগে, শনিবার (৯ মে) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে দুবাই হয়ে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। মরদেহ গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন তার মা–বাবা, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।
এ সময় পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নিহত শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ ঘটনায় মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ সরাসরি মাদারীপুরের গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানে বাদ আসর নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে দাদা–দাদির কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।
আরটিভি/কেডি