বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ , ০৬:০৩ পিএম
মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এই বৈশ্বিক অপরাধ দমনে সরকার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে, যা অপরাধীদের দমনে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০২৬’ বিষয়ক এক সচেতনতামূলক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মশালায় দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান।
সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, নতুন এই আইনে কেবল পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াই নয়, বরং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিতকরণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন,মানব পাচার প্রতিরোধে কেবল কঠোর আইনই যথেষ্ট নয়; এর জন্য প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা। অনলাইন প্রতারণা, স্ক্যামিং ও মুক্তিপণ আদায়ের মতো নতুন ধারার অপরাধগুলোকেও এবার এই আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
কর্মশালায় জানানো হয়, ২০১২ সালের আইনের সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে উঠতে নতুন আইনে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। নতুন আইনে পাচারকারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা, সম্পত্তি আটক করা এবং আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার করার মতো কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া পাসপোর্ট ও ভিসা জালিয়াতি এবং ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রতারণার বিরুদ্ধেও শাস্তির মাত্রা বাড়ানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রেবেকা খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
বক্তারা জানান, এই আইনে প্রথমবারের মতো মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান সংক্রান্ত সব বিধান একীভূত করা হয়েছে। পাচারের শিকার ভুক্তভোগী যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে জাল পাসপোর্ট ব্যবহার বা অনুপ্রবেশের মতো কাজে জড়িয়েও পড়ে, তবে তাকে আইনের আওতায় আসামি করা হবে না। এছাড়া ভুক্তভোগীদের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা অবস্থায় প্রতি ৬ মাস অন্তর প্রতিবেদন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে, যা ভুক্তভোগীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।
কর্মশালায় গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে সচিব বলেন, মানব পাচার চক্রের মূলোৎপাটন এবং অবৈধ পথে বিদেশ গমনের প্রবণতা হ্রাসে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি গণমাধ্যমের বলিষ্ঠ ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।
সূত্র: বাসস
আরটিভি/এআর