বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬ , ০৮:৫০ এএম
বাড়ির টবে রাখা ছোট্ট একটি গাছের পাতায় মিলেছে এমন এক গাণিতিক নকশা, যা শহরের রাস্তা, স্কুল, হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থাপনার পরিকল্পনায় ব্যবহার করা হয়। সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের এক গবেষণায় উঠে এসেছে এই চমকপ্রদ তথ্য।
গবেষণায় দেখা গেছে, চাইনিজ মানি প্ল্যান্টের পাতার প্রধান শিরাগুলো ভোরোনয় ডায়াগ্রাম নামে পরিচিত একটি গাণিতিক বিন্যাসের মতো। এই গাণিতিক পদ্ধতি ব্যবহার করে কোনো এলাকার বিভিন্ন স্থাপনা এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়, যাতে মানুষ সবচেয়ে কাছের সেবা সহজে পেতে পারে।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ন্যাচার কমিউনিকেশনস সাময়িকীতে।
গবেষকদের একজন এলাইজা ব্লুম প্রথম এই মিলটি লক্ষ্য করেন। নিজের বোনের চাইনিজ মানি প্ল্যান্টের পাতার শিরা দেখে তার মনে হয়, এটি ভোরোনয় ডায়াগ্রামের মতো দেখতে। পরে তিনি বিষয়টি তার তত্ত্বাবধায়ক কম্পিউটার বিজ্ঞানী সাকেত নাভলাখাকে জানান। এরপর শুরু হয় বিস্তারিত গবেষণা।
গবেষণায় দেখা যায়, পাতার ক্ষুদ্র ছিদ্র থেকে উদ্ভিদের একটি হরমোন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন দিক থেকে আসা এই প্রবাহ এক জায়গায় মিলিত হয়ে সীমারেখা তৈরি করে। সময়ের সঙ্গে সেই সীমারেখাই পাতার প্রধান শিরায় পরিণত হয়। অর্থাৎ, পাতা নিজেই এক ধরনের গাণিতিক নকশা তৈরি করে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বহু বছর ধরে পাতার জালের মতো শিরা কীভাবে তৈরি হয়, তা নিয়ে গবেষণা চলছিল। এই গবেষণা সেই রহস্যের সম্ভাব্য বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে। একই সঙ্গে এটি প্রথম গবেষণা, যেখানে শুধু এই গাণিতিক নকশার উপস্থিতিই নয়, এটি কীভাবে তৈরি হয় তাও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার শুধু উদ্ভিদবিজ্ঞানের জন্য নয়, ভবিষ্যতে প্রকৌশল, নগর পরিকল্পনা এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞানী লরেন স্যাক বলেন, পাতার শিরা নিয়ে গবেষণা আগেও সৌর প্যানেল, ইলেকট্রনিক সার্কিট এবং বিভিন্ন বিতরণব্যবস্থার উন্নত নকশা তৈরিতে সহায়তা করেছে। পাতার শিরা সম্পর্কে যত বেশি জানা যাবে, ভবিষ্যতের প্রযুক্তিও তত বেশি কার্যকর হবে।
দক্ষিণ চীনের ইউনান ও সিচুয়ান অঞ্চলের চাইনিজ মানি প্ল্যান্ট, যা কয়েন প্ল্যান্ট বা প্যানকেক প্ল্যান্ট নামেও পরিচিত, এখন বিশ্বের অনেক বাড়ির শোভা বাড়াচ্ছে। আর সেই পরিচিত গাছের পাতাই এবার বিজ্ঞানীদের সামনে তুলে ধরল প্রকৃতির লুকিয়ে থাকা এক বিস্ময়কর গাণিতিক রহস্য।
আরটিভি/জেএমএ