images

রাজনীতি / রাজধানী

ঢাকায় বাসায় ঢুকে জামায়াত নেতাকে হত্যা

মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৭:৩৬ পিএম

রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় খুন হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, জামায়াত নেতা ও হোমিও চিকিৎসক মোহাম্মদ আনোয়ার উল্লাহ (৬৫)। পরিবারের দাবি, এটি কোনো সাধারণ চুরির ঘটনা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ২টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে পশ্চিম রাজাবাজারে তার বাসার জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢোকে দুর্বৃত্তরা। এরপর আনোয়ার উল্লাহর মুখে কাপড় গুঁজে শ্বাসরোধ করে বাসায় থাকা নগদ পাঁচ লাখ টাকাসহ ৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায় তারা। পরে আজ (মঙ্গলবার) সকালে আনোয়ার উল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত আনোয়ার উল্লাহ শেরে বাংলা নগর দক্ষিণ থানার জামায়াতে ইসলামীর একজন রোকন এবং পশ্চিম রাজাবাজার ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

নিহতের জামাতা মো. শামসুদ্দোহা বলেন, সোমবার রাত ২টার দিকে দুইজন মুখোশধারী গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে আনোয়ার উল্লাহর দুই হাত বেঁধে নির্যাতন করে। পরে ভোর ৫টার দিকে আমার শাশুড়ি কল করে আমাকে এ ঘটনা জানান। আমি সঙ্গে সঙ্গে বাসায় গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় পাই। তার গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল।

তিনি আরও বলেন, হত্যাকারীরা ফ্ল্যাট থেকে কিছু মূল্যবান সামগ্রী ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমাউল হক গণমাধ্যমকে বলেন, রাতে ঘরের গ্রিল কেটে একদল চোর প্রবেশ করে। এ সময় ঘুমিয়ে ছিলেন আনোয়ার উল্লাহ ও তার স্ত্রী। তাদের দুজনের হাত-পা ও মুখ বেঁধে চোর চক্র ঘর থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আনোয়ার উল্লাহ মারা যান।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 

আরও পড়ুন
Web_Image

বনশ্রীতে স্কুলছাত্রীকে হত্যা, সেই মিলনকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলো র‍্যাব

এদিকে আজ বিকেল সাড়ে ৩টায় পশ্চিম রাজাবাজার মসজিদ প্রাঙ্গণে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার লাকসামে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতে ইসলামীর প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার জানান, শেরে বাংলা নগর দক্ষিণ থানার পশ্চিম রাজাবাজার ওয়ার্ড জামায়াতের সহ-সভাপতি ও রোকন ছিলেন আনোয়ার উল্লাহ। তিনি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, স্থানীয় হোমিও চিকিৎসক, বিশিষ্ট সমাজসেবক ছিলেন। সন্ত্রাসীরা তার বাসার স্বর্ণালংকার, টাকাসহ বহু মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ মেয়ে ও ১ ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মোহাম্মদ আনোয়ার উল্লাহ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। 

এক যৌথ শোকবাণীতে তারা বলেন, ‘মোহাম্মদ আনোয়ার উল্লাহ ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের সম্মুখ সারির যোদ্ধা। তিনি ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তিতে দেশকে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার স্বপ্ন দেখতেন এবং জীবনের শেষদিন পর্যন্ত সে লক্ষ্যে অবিচল ও আপসহীন ছিলেন। তিনি একজন সমাজসেবক ও স্বজ্জন ব্যক্তি হিসেবে সমাজে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন। তার নির্মম হত্যাকাণ্ডে আমরা একজন নিবেদিতপ্রাণ সহযোদ্ধাকে হারালাম’। 

নেতৃদ্বয় এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং দুর্বৃত্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন এবং আইন শৃঙ্খলার অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দুইটি রাজনৈতিক নেতার হত্যার ঘটনা দুঃখজনক। দ্রুততম সময়ে হত্যার কারণ উদঘাটন করা, দায়ীদের আটক এবং শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। না হয় মানুষ অন্তবর্তীকালীন সরকারের ওপর আস্থা হারাবে।

আরটিভি/আইএম