বনশ্রীতে স্কুলছাত্রীকে হত্যা, সেই মিলনকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলো র‍্যাব

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ , ১০:৫৬ এএম


বনশ্রীতে স্কুলছাত্রীকে হত্যা, সেই মিলনকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলো র‍্যাব
ছবি: সংগৃহীত

হোটেল মালিকের মেয়ে ফাতেমা আক্তার লিলিকে নিয়ে পালাতে চেয়েছিলেন হোটেলের কর্মচারী মিলন মল্লিক। কিন্তু এতে রাজি না হওয়ায় স্কুল শিক্ষার্থী লিলিকে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায় মিলন। গতকাল সোমবার বাগেরহাট থেকে মিলনকে গ্রেপ্তারের পর এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় র‌্যাব।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, বেশকিছু দিন ধরে ভিকটিমকে অনৈতিক প্রস্তাব দিচ্ছিল মিলন মল্লিক। এতে ভিকটিম সাড়া দেননি। বাসায় কেউ না থাকায় ঘটনার দিন ফের অনৈতিক প্রস্তাব দেয় মিলন; কিন্তু সাড়া না পেলে সে ভিকটিমকে বেঁধে ফেলে এবং হত্যা করে।

র‌্যাব জানিয়েছে, হত্যার পর মিলন বাগেরহাটে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল। সে কোনো মোবাইল ফোন ব্যবহার করত না। দরকার হলে হোটেলের অন্যদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করত। হত্যার পর মিলন ওই বাড়ি থেকে কিছু টাকা নিয়েছে, কিন্তু ৫ লাখ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। আর স্বর্ণালংকার নেওয়ার বিষয়টিও পুরোপুরি অস্বীকার করেছে।

বিজ্ঞাপন

মিলনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মিলন মল্লিকের সঙ্গে নীলির সুসম্পর্ক ছিল। তবে এই সম্পর্কের সুবাদে মিলন বিভিন্ন সময় আকার-ইঙ্গিতে নীলির কাছে প্রেমের বহিঃপ্রকাশ করত এবং নীলির পরিবার গ্রামের বাড়িতে গেলে মিলন নীলিকে নিয়ে পালিয়ে যাবে বলে তাকে জানায়। পরে সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী গত শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে বাসায় একা পেয়ে নীলিকে তার সঙ্গে পালিয়ে যেতে প্রস্তাব দেয় মিলন। কিন্তু সেই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে নীলি তাকে জানায়, রেস্তোরাঁ মালিকের মেয়ে হয়ে সে কর্মচারীর সঙ্গে যাবে না। সেইসঙ্গে নীলি মিলনকে ‘বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়াতে’ নিষেধ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয় মিলন। তখন বেরিয়ে গেলেও একঘণ্টা পর আবার বাসায় ঢুকে। সে সময় সঙ্গে করে নিয়ে আসা নাইলনের দঁড়ি দিয়ে নীলির গলা পেঁচিয়ে ধরে। এক পর্যায়ে রান্না ঘরের বটি দিয়ে গলা কেটে নীলিকে হত্যা করে।

গত শনিবার বিকেলে খবর পেয়ে দক্ষিণ বনশ্রী মেইন রোডের এল ব্লকের ২/১ নং রোডের প্রীতম ভিলা নামের বাসা থেকে ফাতেমা আক্তার নীলির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নীলি বনশ্রীর রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণিতে পড়তো। মা-বাবা, ভাই ও বোনের সঙ্গে ওই বাসায় থাকত সে। তাদের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাইয়ে। তার বাবা সজীব মিয়া বনশ্রীতে একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেন।

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission