শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৬:১০ পিএম
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর সিরাজগঞ্জের মাটিতে পা রেখে বিশাল জনসমুদ্রে ভাষণ দিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পাইকপাড়ায় বিসিক শিল্প পার্কে আয়োজিত জনসভায় তিনি গত ১৬ বছরের ‘গুপ্ত’ ষড়যন্ত্রকারী চক্র থেকে দেশবাসীকে সজাগ থাকার কঠোর আহ্বান জানান।
তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যারা দীর্ঘ সময় স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে তলে তলে কাজ করেছে, তারা এখন ভিন্ন বেশে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে অর্জিত জনগণের বিজয়কে নস্যাৎ করতে এই চক্রটি এখনও সক্রিয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, রাজপথে যাদের গত ১৬ বছর দেখা যায়নি, তারা এখন বড় বড় কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। এরা মূলত পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারের প্রেতাত্মা। এই ‘গুপ্ত’ চক্রটি যেন শহীদদের রক্ত আর ভাই-বোনদের ত্যাগের অধিকার স্তব্ধ করতে না পারে, সেজন্য আপনাদের পাহারাদারের ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করার মাধ্যমে এই ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান। বক্তৃতার শুরুতেই তিনি ভোট ডাকাতির প্রতিবাদে দৃষ্টিশক্তি হারানো মেরি এবং গুম-খুনের শিকার পরিবারগুলোর ত্যাগের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে বিএনপির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বেশ কিছু যুগান্তকারী প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে গৃহিণীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ সব ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। বিশেষ করে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা অঞ্চলকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গজুড়ে কৃষিভিত্তিক শিল্প পার্ক গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তিনি।
তিনি বলেন, ৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি আর ২০২৪ সালে সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছি; এখন সময় সেই স্বাধীনতাকে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া।
ঐতিহাসিক এই জনসভায় সিরাজগঞ্জ ও পাবনার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল নামে। সর্বশেষ ২০০৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে ভাষণ দিয়েছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৯ বছর পর প্রিয় নেতাকে সামনে পেয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে অভূতপূর্ব উদ্দীপনা দেখা যায়।
আরটিভি/এআর