images

রাজনীতি

বিএনপিকে বিজয়ী মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিলেন জামায়াত আমির

শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৬:২৪ এএম

বিএনপিকে বিজয়ী মেনে নিয়ে নির্বাচনের ফলাফলকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। একইসঙ্গে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে কাজ করার বার্তাও দিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেছেন, শুরু থেকে আমরা একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতিতে এখনও অটল। আমরা সামগ্রিক ফলাফলকে স্বীকৃতি দিচ্ছি এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টা ৪৪ মিনিটের দিকে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে এক পোস্টের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেন জামায়াত আমির।

তিনি লিখেন, বিগত মাসগুলোতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, সেই অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। অনেকে নিজের সময়, শক্তি ও বিশ্বাস উৎসর্গ করেছেন। অনেকে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। আপনাদের এই সাহসিকতা আমাদের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছে।

এরপর নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জামায়াত আমির লিখেন, আমি জানি, আপনাদের মধ্যে অনেকে আজ ব্যথিত এবং গভীরভাবে হতাশ। এটা স্বাভাবিক। যখন আপনি কোনো আদর্শের পেছনে নিজের হৃদয় ঢেলে দেন, তখন তার ফলাফল আপনাকে গভীরভাবে স্পর্শ করে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই— আপনাদের প্রচেষ্টা বৃথা যায়নি। ৭৭টি আসন নিয়ে আমরা সংসদে আমাদের উপস্থিতিকে প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি করেছি এবং আধুনিক বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম শক্তিশালী বিরোধী ব্লকে পরিণত হয়েছি।

আরও পড়ুন
dilli

বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়কে যেভাবে দেখছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো

তিনি লিখেন, ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে রাজনীতির ভাগ্য পরিবর্তনশীল। ২০০৮ সালে বিএনপি মাত্র ৩০টি আসনে নেমে এসেছিল, যেখান থেকে দীর্ঘ ১৮ বছরের পথ পাড়ি দিয়ে ২০২৬ সালে তারা সরকার গঠন করেছে। গণতান্ত্রিক রাজনীতি একটি দীর্ঘ পথ। আমাদের পথ এখন পরিষ্কার— মানুষের আস্থা অর্জন করা, ক্ষমতাকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং দায়িত্বশীলভাবে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।

shafiqur

শফিকুর রহমান আরও লিখেন, যেকোনো প্রকৃত গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় নেতৃত্বের আসল পরীক্ষা শুধু নির্বাচনী প্রচারণায় নয়, বরং জনগণের রায়কে কীভাবে গ্রহণ করি তার ওপর নির্ভর করে। শুরু থেকেই আমরা একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম, সেই প্রতিশ্রুতিতে এখনো অটল। আমরা সামগ্রিক ফলাফলকে স্বীকৃতি দিচ্ছি এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

সবশেষে জামায়াত আমির লিখেন, আমাদের আন্দোলন কখনোই কেবল একটি নির্বাচনের জন্য ছিল না। এটি ছিল গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করা, নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করা এবং একটি ন্যায়বিচারপূর্ণ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলার জন্য। আমরা নীতিবান, দায়িত্বশীল এবং শান্তিপূর্ণ বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করব; একই সঙ্গে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করে জাতীয় অগ্রগতিতে গঠনমূলক অবদান রাখব। নীতিভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ রাজনীতির প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অবিচল থাকবে।

আরটিভি/এসএইচএম