রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬ , ০৯:৩৯ পিএম
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় দলীয় কার্যক্রম আরও সক্রিয় ও গতিশীল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ দলের সব পর্যায়ের ইউনিটকে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রোববার (১২ জুলাই) এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় দলীয় ইউনিটগুলোকে সাংগঠনিক তৎপরতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে যথাসম্ভব দ্রুত জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব মহাসচিবকে দেওয়া হয়।
সভায় মহাসচিব বিগত সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন সম্পর্কে সদস্যদের অবহিত করেন।
এছাড়া বর্তমান বিএনপি সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, মন্দিরের পুরোহিত, চার্চের ফাদার এবং বৌদ্ধ মন্দিরের সেবায়েতদের ভাতা প্রদানের কর্মসূচিসহ বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
সভায় দলের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হয়। ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করা হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইশতেহারে বর্ণিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
বৈঠকে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জুলাই সনদ ও গণভোট প্রসঙ্গে জনগণকে বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টার নিন্দা জানানো হয়। এ বিষয়ে দলীয় অবস্থান জনগণের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার কার্যক্রম আরও জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
সভায় ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুতের জন্য স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর এবং ওই দুই দেশের সঙ্গে সম্পাদিত বিভিন্ন চুক্তি সম্পর্কেও সভাকে অবহিত করা হয়। পারস্পরিক উন্নয়ন, সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় দুই দেশের অংশগ্রহণের প্রশংসা করা হয়। সভার মতে, পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে এ সফরের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সফল সফরের জন্য তাকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানানো হয়।
সভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় সভায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দুই দেশকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। সভার মতে, এ সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সভায় সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়াকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের একটি বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ অর্জন বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করবে এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
দেশে মাদক সমস্যার বিস্তার নিয়েও সভায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং এ বিষয়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সভায় দলের সাবেক কোষাধ্যক্ষ, মুন্সিগঞ্জ থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক চিফ হুইপ ও সাবেক মন্ত্রী হারুন-অর-রশীদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।
সভা শেষে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বৈঠকের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বেগম সেলিমা রহমান। মির্জা আব্বাস বৈঠকে ভার্চুয়ালি অংশ নেন।
আরটিভি/এমএ