শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬ , ০২:৩৭ পিএম
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ৫৫তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে নেপালের বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক এক জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় কাঠমান্ডুর র্যাডিসন হোটেলে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে নেপালের উপরাষ্ট্রপতি রামসহায় প্রসাদ যাদব প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া নেপালে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও মিশনপ্রধান, নেপালের মন্ত্রীপরিষদের সদস্য ও রাজনৈতিক নেতা, জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজ ও থিঙ্ক-ট্যাঙ্কের সদস্য, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতা, গণমাধ্যমকর্মী এবং নেপালে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নৈতিক ও বস্তুগত সহায়তার জন্য নেপাল সরকার ও জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান ৯ মাসব্যাপী মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে তিনি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কানেক্টিভিটি, জ্বালানি, সংস্কৃতি, শিক্ষা, পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেপালের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার ও সুদৃঢ় করার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি এ সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের দক্ষ নেতৃত্বে গঠিত নেপালের নবগঠিত সরকারকেও অভিনন্দন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ-নেপাল দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা গভীরতর হবে এবং নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। বাংলাদেশে নবগঠিত সরকারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত উপস্থিত অতিথিদের অবহিত করেন যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং নেপালের নতুন সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
অনুষ্ঠানস্থলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের প্রার্থিতাকে তুলে ধরে দুটি ব্যানার প্রদর্শন করা হয়। ড. খলিলুর রহমান ২০২৭–২০২৮ মেয়াদে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বক্তব্য প্রদানের সময় রাষ্ট্রদূত রহমান ড. খলিলুর রহমানের প্রোফাইল উপস্থাপন করেন এবং তার প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন কামনা করেন।
বক্তব্যের পর প্রধান অতিথি ও রাষ্ট্রদূত যৌথভাবে কেক কেটে দিবসটির বর্ণাঢ্য বার্ষিকী উদযাপনকে স্মরণীয় করে রাখেন। এরপর প্রধান অতিথি ও রাষ্ট্রদূত ক্রেস্ট বিনিময় করেন যা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে তুলে ধরে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রধান অতিথির সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের বিশেষ আলাপচারিতা হয় যেখানে দুদেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি নিয়ে তারা মতবিনিময় করেন।
পরবর্তীতে ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক নানা খাবারের সমাহারে এক নৈশভোজের মাধ্যমে সংবর্ধনা শেষ হয়।
অনুষ্ঠানে নেপালের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীসহ প্রায় ৩৮০ জন অতিথি অংশগ্রহণ করেন যাদের মধ্যে নেপালে নিযুক্ত ২৫ জন রাষ্ট্রদূত/আবাসিক মিশনপ্রধান এবং কূটনৈতিক কোরের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আরটিভি/এমএইচজে