বাংলাদেশ দূতাবাস দোহার উদ্যোগে নানা আয়োজনের মাধ্যমে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল এন্ড কলেজ ও বাংলাদেশ বিমানের স্থানীয় প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ ও কাতার সরকারের নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সীমিত আকারে দিবসটি উদযাপন করা হয় ।
রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের উপস্থিতিতে মান্যবর রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হযরত আলী খান কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যে দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস অনুষ্ঠানের কর্মসূচীর সূচনা করা হয়। পরে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করার পর মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় ।
এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্ম-উৎসর্গকারী সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত এবং দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নতি ও মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

দূতালয় প্রধান আব্দুল্লাহ আল রাজীর সঞ্চালনায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্যের উপর বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অংশ গ্রহণ কালে বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ টি এম আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ বিমানের কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. কামাল উদ্দিন এবং দূতাবাসের অন্যান্য আলোচকগণ মুক্তিযোদ্ধাদের অবিস্মরণীয় অবদান ও আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
মান্যবর রাষ্ট্রদূত বক্তব্যের শুরুতেই মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত সকল শহীদ, নির্যাতিত মা-বোন ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। এছাড়াও তিনি জুলাই-আগষ্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত সকলের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
পরে তিনি মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্যের উপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা কালে স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করে একটি সত্যিকারের স্বাধীন, শোষণমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে সুযোগ তৈরী হয়েছে তা বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য সকলকে আহবান জানান।
পরবর্তীতে এক সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক আয়োজনে দেশাত্মবোধক গান ও কবিতা পরিবেশন করা হয়। পরিশেষে, অনুষ্ঠানে অভ্যাগত অতিথিদের দেশীয় খাবারে আপ্যায়িত করা হয়।
আরটিভি/এমআই




