images

প্রবাস

রাজমিস্ত্রি থেকে ইউরোপের স্বপ্ন, ভূমধ্যসাগরে না খেয়ে মরতে হলো যুবককে

বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:১১ পিএম

বিদেশে গিয়ে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় দেশ ছেড়েছিলেন সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার যুবক মুহিবুর রহমান। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর বাস্তবে রূপ নিল না। লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরের মাঝেই অনাহার ও তৃষ্ণায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

মুহিবুর রহমান ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের গাগলাজুর গ্রামের বাসিন্দা মো. নুরুল আমিনের ছেলে। তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। দেশে রাজমিস্ত্রির কাজ করে তার আয়েই চলত পুরো পরিবার।

গত শনিবার ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের ১২ জনের মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে মুহিবুরের পরিবার উদ্বেগে পড়ে যায়। তারা দালালচক্রের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পায়নি। পরে সোমবার (৩০ মার্চ) একই নৌকায় থাকা আরেক যুবক মারুফ আহমদ গ্রিস থেকে ফোন করে মুহিবুরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মারুফ আহমদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় খাবার ও পানির অভাবে নৌকায় থাকা যাত্রীরা দুর্বল হয়ে পড়েন। সবার আগে মারা যান মুহিবুর রহমান। এরপর একে একে আরও কয়েকজন প্রাণ হারান। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, মরদেহগুলো পচে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে জীবিতদের বাধ্য হয়ে সেগুলো সাগরে ফেলে দিতে হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সংসারের হাল ধরতে এবং ভালো ভবিষ্যতের আশায় দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে প্রায় ১৩ লাখ টাকার বিনিময়ে মুহিবুরসহ কয়েকজন যুবক এই বিপজ্জনক পথে পাড়ি জমান। সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা গ্রামের এক দালালের মাধ্যমে তাদের লিবিয়া হয়ে অবৈধভাবে গ্রিসে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

আরব আমিরাতে মিসাইলের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে কুমিল্লার শাহ আলমের মৃত্যু

মুহিবুরের মৃত্যুর খবরে তার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। ছোট ভাই হাফিজুর রহমান অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মা মহিমা বেগম বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন, শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন তিনি। আর বাবা নুরুল আমিন ছেলের এমন নির্মম পরিণতি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি এমন ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশযাত্রা থেকে যুবসমাজকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডিপ্লোমেসি চাকমা গণমাধ্যমকে বলেন, মর্মান্তিক এই ঘটনাটি সম্পর্কে আমি জানতে পেরেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।

আরটিভি/এমএইচজে