বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ , ০৭:৪৩ পিএম
মালয়েশিয়ার দুই রাজ্যে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। বিশেষ এই অভিযানে ১৩৪ জন বিদেশিকে আটক করেছে তারা। আটকদের মধ্যে ৮৮ জনই বাংলাদেশি।
বুধবার (১৩ মে) কেদাহ রাজ্যের দুই জেলায় এবং জোহর রাজ্যের এক জেলায় এই অভিযান চালানো হয়।
কেদাহ ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, বুধবার সকাল ১০টা থেকে কুলিম ও কোটা সেতার এলাকায় চালানো বিশেষ অভিযানে অংশ নেন ইমিগ্রেশন বিভাগের ২৩ জন কর্মকর্তা।
গোপন তথ্য ও জনসাধারণের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তিনটি স্থাপনায় তল্লাশি চালিয়ে মোট ১২০ জন স্থানীয় ও বিদেশি নাগরিককে যাচাই-বাছাই করা হয়। এর মধ্যে ৯১ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়।
আটকদের মধ্যে রয়েছেন ৭১ জন বাংলাদেশি পুরুষ ও একজন বাংলাদেশি নারী; ছয়জন থাই পুরুষ ও চারজন থাই নারী; তিনজন চীনা পুরুষ; চারজন পাকিস্তানি পুরুষ এবং দুইজন ইন্দোনেশীয় পুরুষ।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বয়স ১৫ থেকে ৫৭ বছরের মধ্যে। তাদের বেলান্তিক ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে সহায়তার জন্য দুইটি সাক্ষী সমনের নোটিশও জারি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জোহরের মুয়ার জেলায় ছয়টি আসবাবপত্র কারখানা ও শ্রমিকদের আবাসস্থলে অভিযান চালিয়ে ৪৩ জন বিদেশিকে আটক করেছে সেখানকার ইমিগ্রেশন বিভাগ।
জোহর ইমিগ্রেশনের পরিচালক দাতুক মোহদ রুসদি মোহদ দারুস জানান, মুয়ার, সেগামাত ও বাতু পাহাত শাখার সমন্বয়ে সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়।
তিনি বলেন, অভিযান চলাকালে কয়েকজন শ্রমিক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং কারখানার ভেতরে লুকিয়ে পড়েন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত সব বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দিলে তারা পালাতে পারেনি।
আটকদের মধ্যে ১৫ জন বাংলাদেশি পুরুষ, একজন পাকিস্তানি পুরুষ, আটজন মিয়ানমারের পুরুষ, আটজন নেপালি পুরুষ, পাঁচজন চীনা পুরুষ এবং তিনজন ইন্দোনেশীয় নারী। এছাড়া, একজন বাংলাদেশি কিশোরী, একজন ইন্দোনেশীয় কিশোরী ও একজন মিয়ানমারের নারীও আটক হয়েছেন।
আটকদের বয়স ১৪ থেকে ৬২ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাদের পন্টিয়ানের পেকান নেনাস ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।
জোহর ইমিগ্রেশন বিভাগ সতর্ক করে জানিয়েছে, অবৈধ বিদেশি শ্রমিকদের আড়াল করার যে কোনো কৌশল কঠোর নজরদারির আওতায় থাকবে।
আরটিভি/এসএইচএম