images

প্রবাস

যুক্তরাষ্ট্রে মারা গেছেন বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী ড. ইরফান

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬ , ০৪:৫৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে মারা গেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী সাবেক শিক্ষার্থী এবং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার সিনিয়র ডেটা সায়েন্টিস্ট ড. ইরফান আল-হুসাইনি। যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার অকাল মৃত্যুতে বুয়েট, জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (জর্জিয়া টেক), এনভিডিয়া এবং দেশ-বিদেশের প্রযুক্তি ও গবেষণা মহলে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে পরিবার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি। ফলে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হচ্ছে। 

ড. ইরফান আল-হুসাইনি বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের একজন কৃতী শিক্ষার্থী ছিলেন। স্নাতক শেষ করে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরে জর্জিয়া টেক থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। গবেষণাজীবনে তিনি স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাখ্যাযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (ইন্টারপ্রেটেবল মেশিন লার্নিং), বায়োমেডিক্যাল তথ্য বিশ্লেষণ, ডকুমেন্ট ফিল্টারিং, স্বয়ংক্রিয় সারসংক্ষেপ তৈরি, নেমড-এনটিটি শনাক্তকরণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ডোমেইন জ্ঞানের ব্যবহার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন।

পিএইচডি সম্পন্ন করার পর তিনি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ চিপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ায় সিনিয়র ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে যোগ দেন। সেখানে স্বাস্থ্যসেবা খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত ছিলেন। তার গবেষণাপত্র নিউরআইপিএস, সিগির, সিআইকেএম, আইক্যাসপ, বায়োএনএলপি ও এমএলএইচসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

ড. ইরফান আল-হুসাইনি ছিলেন বুয়েটের বিশিষ্ট সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. তাহমিদ আল-হুসাইনির ছেলে। একাডেমিক উৎকর্ষ, গবেষণায় সাফল্য এবং বিনয়ী ব্যক্তিত্বের জন্য তিনি শিক্ষক, সহপাঠী ও সহকর্মীদের কাছে সমানভাবে শ্রদ্ধেয় ছিলেন।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

ঋণের টাকায় রাশিয়া গিয়ে যুদ্ধবন্দি গাইবান্ধার রিমেল

২০২৪ সালে জর্জিয়া টেক ড. ইরফান আল-হুসাইনি এবং তার স্ত্রী ড. ফাবিয়া ফারলিন অ্যাথেনাকে নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে তাদের একাডেমিক যাত্রা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং একই সঙ্গে পিএইচডি সম্পন্ন করার অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প তুলে ধরা হয়। যদিও দুজনই বুয়েটে একই সময়ে পড়াশোনা করেছিলেন, তাদের পরিচয় হয় যুক্তরাষ্ট্রে জর্জিয়া টেকে। পরে ২০২২ সালে আটলান্টায় তাদের বিয়ে হয় এবং ২০২৪ সালে তারা একসঙ্গে পিএইচডি সমাবর্তনে অংশ নেন।

ড. ইরফানের মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন তার সহপাঠী, বন্ধু, শিক্ষক ও সহকর্মীরা। বুয়েটের এক সহপাঠী তাকে স্মরণ করে লিখেছেন, ইরফান ছিলেন অত্যন্ত শান্ত, ভদ্র, ধর্মপ্রাণ এবং অসাধারণ মেধাবী একজন মানুষ। বুয়েটে পড়ার সময় তিনি ফুটবল দলের অন্যতম সেরা উইঙ্গার ছিলেন। পাশাপাশি আইইইই সিগন্যাল প্রসেসিং কাপ প্রতিযোগিতায় দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তার অসাধারণ মেধা ও বিনয়ী আচরণ তাকে সবার কাছে প্রিয় করে তুলেছিল।

বাংলাদেশ থেকে উঠে এসে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখে যাওয়া ড. ইরফান আল-হুসাইনির অকাল প্রয়াণ বাংলাদেশের প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণার জন্য এক বড় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন তার সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তারা রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

আরটিভি/ এসকেডি