ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ঋণের টাকায় রাশিয়া গিয়ে যুদ্ধবন্দি গাইবান্ধার রিমেল

​সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম
রিমেল মিয়া। ছবি: সংগৃহীত

অভাবের সংসারে হাল ধরতে আর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের শেষ বয়সের একমাত্র আশ্রয় হতে চেয়েছিলেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তরুণ রিমেল মিয়া। কিন্তু ভাগ্যবিড়ম্বনা এবং দালালের অভিনব প্রতারণার জালে জড়িয়ে আজ তার সেই সুন্দর স্বপ্নগুলো নিমিষেই ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। দালালের ফাঁদে পা দিয়ে তিনি এখন ইউক্রেনের একটি ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবার যখন তাকে মৃত বলেই ধরে নিয়েছিল, ঠিক তখন ইউক্রেনের একটি ডিটেনশন সেন্টার থেকে জুমের মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার জীবিত থাকার আকস্মিক খবর প্রকাশ্যে আসে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র অনুভূতির জন্ম দিয়েছে।

​গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছাপড়হাটী ইউনিয়নের উত্তর মরুয়াদহ গ্রামের হতদরিদ্র সৈয়দ আলী ও রেখা বেগম দম্পতির চার ছেলের মধ্যে রিমেল দ্বিতীয়। তাদের পরিবারে অভাব-অনটন যেন চিরদিনের নিত্যসঙ্গী। চার ভাইয়ের মধ্যে বড় ভাই এরশাদ আলী ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন, তৃতীয় ভাই রুবেল মিয়া সৌদি আরবে কর্মরত এবং ছোট ভাই সোহেল মিয়া স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

পরিবারের চরম আর্থিক সংকট এবং সংসারের জোড়াতালি দেওয়া অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার তীব্র বাসনা থেকেই রিমেল বিদেশ যাওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি স্থানীয় শোভাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২২ সালে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে এসএসসি পাস করেন। এরপর ২০২৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুটি বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার পর বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেন এবং আর পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারেননি। পরিবারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন বুকে নিয়ে আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্ন এনজিও থেকে প্রায় ছয় লাখ টাকা চড়া সুদে ধারদেনা করেন। এরপর ২০২৫ সালের মার্চ মাসে নির্মাণশ্রমিকের আকর্ষণীয় কাজের ভিসায় দেশ ছেড়ে রাশিয়ার উদ্দেশে পাড়ি জমান রিমেল।

​রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর শুরুর দিকে রিমেলের জীবন মোটামুটি স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। তিনি সেখানে প্রথমে একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে মাসিক ৭০০ ডলার বেতনের একটি কাজ পেয়েছিলেন। নিজের উপার্জনে কিছুটা স্বস্তি ফিরছিল এবং নিয়মিত পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখতেন। কিন্তু ছয় মাস পেরোতেই তার জীবনে নেমে আসে বড় ধরনের বিপত্তি। হঠাৎ করেই তিনি সেই কাজ হারিয়ে ফেলেন। এরপর রাশিয়ায় আইনি জটিলতার মুখে পড়েন।

​বিদেশ বিভুঁইয়ে কাজ হারিয়ে এবং বৈধভাবে থাকার কোনো উপায় না পেয়ে চরম হতাশায় দিন কাটাতে থাকেন তিনি। ঠিক এই সংকটময় মুহূর্তে এক দালালের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তিনি এক লোভনীয় বেতনের সঙ্গে চাকরির প্রস্তাব দেন। তাকে জানানো হয়, অত্যন্ত ভালো বেতনের একটি চাকরি রয়েছে, যা তার সব আর্থিক সমস্যার সমাধান করে দেবে। সরল মনে রিমেল সেই ফাঁদে পা দেন এবং রুশ ভাষায় লিখিত একটি চুক্তিপত্রে সই করেন। আর এই একটিমাত্র ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই তার জীবন থেকে হারিয়ে যায় সব আলো।

আরও পড়ুন

​চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করার পরই রিমেলের জীবন চলে যায় এক অন্ধকার অধ্যায়ে। তাকে কোনো নির্মাণকাজে না পাঠিয়ে সরাসরি পাঠানো হয় রুশ সেনাবাহিনীর কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে। সম্পূর্ণ রুশ ভাষায় লেখা চুক্তিপত্রটি তিনি না বুঝেই স্বাক্ষর করেছিলেন, যেখানে উচ্চ বেতন এবং পরবর্তীতে রাশিয়ার নাগরিকত্ব দেওয়ার লোভ দেখানো হয়েছিল।

​কিন্তু মাত্র তিনদিনের সংক্ষিপ্ত ও দায়সারা গোছের প্রশিক্ষণ শেষেই তাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় সরাসরি ইউক্রেন যুদ্ধের ভয়াল সম্মুখসারিতে। গোলাগুলি আর বোমার বিকট শব্দে মুখরিত যুদ্ধক্ষেত্রে তাকে একটি বাংকারে দায়িত্ব পালন করতে হয়। একটানা প্রায় এক মাস জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাংকারে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর তিনিসহ অনেকেই ইউক্রেনীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এর ফলে তিনি সরাসরি যুদ্ধবন্দির খাতায় নাম লেখান।

​আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ফোর্টিফাই রাইটস এবং ইউক্রেনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ট্রুথ হাউন্ডসের সাম্প্রতিক তথ্য ও গবেষণায় উঠে এসেছে এক লোমহর্ষক চিত্র। কাজের প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া অনেক বাংলাদেশি যুবককে কৌশলে ও প্রতারণার মাধ্যমে রুশ সেনাবাহিনীতে যুক্ত করা হয়েছে। তাদের অনেকেই সম্মুখযুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন, অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন এবং অনেকে রিমেলের মতো যুদ্ধবন্দি হিসেবে বিভিন্ন সেন্টারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সরেজমিনে রিমেলের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা মিলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের। একটি ছোট ও জীর্ণশীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছে তার পরিবার। রিমেলের বাবা সৈয়দ আলী স্থানীয় শোভাগঞ্জ বাজারে একটি ক্ষুদ্র পানের দোকান চালিয়ে কোনোমতে টেনেটুনে সংসার চালান।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাবা সৈয়দ আলী বলেন, ধারদেনা করে ছেলেকে অনেক আশা নিয়ে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। রাশিয়া যাওয়ার পর প্রথম পাঁচ-ছয় মাস সে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত। কিন্তু তারপর দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস তার কোনো খোঁজখবরই পেতাম না। সে বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে, আমাদের জানা ছিল না। সম্প্রতি পত্রিকায় তার ছবি দেখে জানতে পারি আমার ছেলে এখনো বেঁচে আছে। আমরা সরকারের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি, আমার সন্তানকে দ্রুত নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হোক।

​মা রেখা বেগম বলেন, ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে প্রতিদিন জায়নামাজে বসে আল্লাহর কাছে কেঁদেছি। মন বলত হয়ত আমার কলিজার টুকরা আর বেঁচে নেই। এখন জানতে পেরেছি সে জীবিত আছে। আমি আর কিছু চাই না, শুধু আমার ছেলেকে একবার বুকে জড়িয়ে ধরতে চাই। সরকার যেন আমার এই অবুঝ ছেলেকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে।

বর্তমানে ইউক্রেনের একটি ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি জীবন কাটানো রিমেলসহ অন্য বাংলাদেশিরা বাংলাদেশ সরকারের কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে নিরাপদে দেশে ফিরতে চান। একই সঙ্গে তারা জোরালো দাবি জানিয়েছেন যে, রাশিয়ায় চুক্তিভিত্তিক কাজের সময় তাদের নামে জমা থাকা বকেয়া বেতন এবং অন্যান্য পাওনা অর্থ যেন যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ট্রেনে ছিনতাই চক্রের ২ নারী সদস্য আটক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন থেকে নামার সময় কৃত্রিম জটলা সৃষ্টি করে এক যাত্রীর গলার সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় সংঘবদ্ধ নারী ছিনতাইকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- হবিগঞ্জ সদর থানার উছাইল (চারিনাও) গ্রামের দুলাল মিয়ার স্ত্রী মোছা. শাহেনা আক্তার শাহানা (৩৪) এবং আদিস মিয়ার স্ত্রী নাসিমা বেগম (৩৯)। ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহ আলম জানান, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলের দিকে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে স্থানীয় জনতার সহায়তায় ওই দুই নারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় একটি মামলায় হয়।  মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ৪ জুন বেলা ১১টার দিকে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রায়হান ভূঁইয়া (৩৪) তার বোন শান্তা আক্তারকে (৩২) সঙ্গে নিয়ে পারিবারিক কাজে আজমপুর স্টেশন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাওয়ার জন্য আন্তঃনগর কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনের ‘চ’ বগিতে ওঠেন। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে তারা ট্রেন থেকে নামার সময় সংঘবদ্ধ চক্রের কয়েকজন নারী কৃত্রিম জটলা সৃষ্টি করেন। এ সময় মোছা. সেলিনা আক্তার (৩৪) সহ তার সহযোগী শাহেনা, রেজিয়া, খুদেজা, গ্রেপ্তারকৃত শাহেনা আক্তার শাহানা ও নাসিমা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন মিলে শান্তা আক্তারকে ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে কৌশলে শান্তা আক্তারের পিঠের পেছন দিয়ে ওড়নার নিচে হাত ঢুকিয়ে তার গলায় থাকা এক ভরি ওজনের সোনার চেইন, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, টেনে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে শান্তা আক্তার তাৎক্ষণিক চেইনটি হাত দিয়ে ধরে ফেলেন এবং চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকার শুনে ভাই রায়হান ভূঁইয়া ও ট্রেনে থাকা অন্যান্য যাত্রীরা এগিয়ে এসে সেলিনা আক্তারকে আটক করেন। এ সময় অন্যরা কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে সেলিনাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করা হলে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পলাতক সহযোগীদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেন বলে পুলিশ জানায়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে শাহেনা আক্তার শাহানা ও নাসিমা বেগমের ওই ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতে মঙ্গলবার আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের আটক করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. শাহ আলম বলেন, আটক দুই আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। এটি একটি সংঘবদ্ধ নারী ছিনতাইকারী চক্র। তাদের আরও কয়েকজন সহযোগী পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আরটিভি/এসএস
ট্রেনে ছিনতাই চক্রের ২ নারী সদস্য আটক
সড়কের পাশে পড়েছিল স্কুলছাত্রী, পরে জানা গেল ‘আসল ঘটনা’
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে (১৪) পাঁচ দিন আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে ওই শিক্ষার্থীর বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কমলগঞ্জ থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন গ্রেপ্তাররা হলেন— মো. জাহেদ আহমেদ (২৪), রাজু আহমেদ (২২) ও জুবেল মিয়া (৩০)। এ মামলার আরেক আসামি কবির (৩০) পলাতক। এজাহারের বরাতে মামলার আইও (তদন্ত কর্মকর্তা) রুহুল আমীন বলেন, ১২ সেপ্টেম্বর ওই শিক্ষার্থীকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান প্রধান অভিযুক্ত জাহেদ। পরে তাকে আসামি জুবেলের বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন আসামিরা। পরবর্তীতে ১৩ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাহেদের বাড়িতে আটকে রেখে তাকে নির্যাতন করা হয়। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে কিশোরীকে কমলগঞ্জের রহিমপুর ইউনিয়নের একটি সড়কের পাশে ফেলে পালিয়ে যান আসামিরা। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন বলেন, মৌলভীবাজারের সদর উপজেলার কলিমাবাদ, গিয়াস নগর ও রাজনগরের গাঙপার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। পলাতক আসামি কবিরকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি। আরটিভি/এসএস
সড়কের পাশে পড়েছিল স্কুলছাত্রী, পরে জানা গেল ‘আসল ঘটনা’
নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের এ কী হাল
নাটোরকে বলা হয় উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার। আর নাটোর জেলা শহর থেকে উত্তরবঙ্গে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের নাটোর অংশে একাধিক স্থানে সড়ক ধসে পড়েছে। একই সঙ্গে সড়কের বেশ কিছু অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে।  জেলার সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম এলাকায় গেলে সড়কের এমন বেহাল অবস্থা চোখে পড়ে। এতে মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীদের মধ্যে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে বগুড়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়, রাজশাহী, নওগাঁসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার হাজার হাজার যানবাহন প্রতিদিন চলাচল করে। সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম এলাকার প্রায় ১৫টি স্থানে সড়কের কিনারায় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও বালুর বস্তা ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে সড়কের পোল উল্টে পড়ে আছে। এই অবস্থায় যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগ জানায়, ২০২১-২২ অর্থ বছরে নাটোর থেকে বগুড়া মহাসড়কের প্রশস্তকরণের কাজ শুরু করে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। এরই অংশ হিসেবে সিংড়া উপজেলার শেরকোল থেকে চৌগ্রাম পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার রাস্তা ফোরলেনের কাজ এ বছরই শেষ করে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। তবে নিংগইন ও হাইটেক পার্ক এলাকায় এখনো ২টি ব্রিজের কাজ চলমান রয়েছে। কয়েকটি প্যাকেজে সাজানো হয়েছে কাজগুলো। রাস্তার দু’ধারে মাটি ফেলা, সড়ক প্রশস্ত, ব্রিজ নির্মাণ এসব প্যাকেজে ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়সারা কাজ ও অনিয়মের কারণে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ার পরপরই চৌগ্রাম এলাকার কয়েকটি স্থানে সড়কের পাশে ধস দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও পিচের স্তর ভেঙে মাটি ও পাথর সরে গেছে। দ্রুত এ বিষয়ে তদন্তের পাশাপাশি সড়কের সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নাটোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আজহারুল ইসলাম জানান, নাটোরে দায়িত্ব পেয়েছি অল্প কিছুদিন হলো। সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো দ্রুত পরিদর্শন করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আরটিভি/এসএস
নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের এ কী হাল
অতিষ্ঠ হয়ে ছেলেকে জেলে পাঠালেন বাবা
নওগাঁর পোরশায় মাদক সেবন ও নিয়মিত পরিবারের ওপর অত্যাচার চালানোর অভিযোগে কাওছার হাবিব (২৫) নামে এক যুবককে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত সন্তানের অমানবিক অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে শেষমেষ তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেন তার নিজ বাবা।
অতিষ্ঠ হয়ে ছেলেকে জেলে পাঠালেন বাবা
ঝিনাইদহে ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
ঝিনাইদহ শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চারটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। 
ঝিনাইদহে ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
আরও পড়ুন
হঠাৎ ভয়ংকর ইউক্রেন, পুড়ছে মস্কো
রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ঘর হারালেন টেনিস তারকা
ভারত থেকে ফেরার সময় ‘মল-মূত্র’ নিয়ে যাবেন পুতিন!
তুষারধসে রাশিয়ায় ১১ পর্বতারোহীর মৃত্যু