images

প্রবাস

নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশ্যে মিশর ছাড়লেন আলোচিত রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬ , ০৩:১১ পিএম

প্রায় তিন বছর দায়িত্ব পালন শেষে নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিংটনের উদ্দেশ্যে কায়রো ত্যাগ করেছেন মিশরে বাংলাদেশের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২৮শে জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায়  ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাংলাদেশ দূতাবাসে একটি বিদায়ী নৈশভোজের আয়োজন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্য, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে বাংলাদেশ কমিউনিটির একাধিক সূত্রের দাবি, আমন্ত্রিত কমিউনিটির কোনো সদস্য ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেননি।

এরপর বৃহস্পতিবার (৩০শে জুলাই) বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে রাষ্ট্রদূতকে আনুষ্ঠানিক বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। 

আরও পড়ুন
05

যুক্তরাষ্ট্রে মারা গেছেন বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী ড. ইরফান

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, অনুষ্ঠানে বিদায়ী বক্তব্যে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী গত তিন বছরে রাষ্ট্রদূতের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকারি বিধি-বিধানের পরিবর্তে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দেওয়া, বিকল্প মতামত উপেক্ষা করা, অসৌজন্যমূলক আচরণ, স্বেচ্ছাচারীভাবে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং স্বৈরাচারী কায়দায় দুতাবাস পরিচালনার পাশাপাশি দুর্নীতির অভিযোগও উত্থাপিত হলে রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মকর্তাদের ভর্ৎসনা করেন। পরে বিদায়ী উপহার গ্রহণ কিংবা নৈশভোজে অংশ না নিয়েই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন তিনি। 

রোববার (২আগষ্ট) রাষ্ট্রদূতের কায়রো মিশনে শেষ কর্মদিবস থাকলেও তিনি দূতাবাসে আসেননি। 

এদিকে রাষ্ট্রদূতের বিদায়কে কেন্দ্র করে মিশরে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তির প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একই সঙ্গে তার দায়িত্বকাল জুড়ে দূতাবাসের সেবার মান, প্রশাসনিক আচরণ এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ওঠা অভিযোগ গুলোও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে ভিয়েতনাম থেকে বদলি হয়ে কায়রোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেন সামিনা নাজ। তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দূতাবাসের নিয়মিত কনস্যুলার সেবায় অস্বাভাবিক ধীরগতি ও প্রশাসনিক জটিলতার অভিযোগ করে আসছেন অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি। তাদের দাবি, সাধারণ প্রবাসী, শিক্ষার্থী, শ্রমিক এবং জরুরি সেবা নিতে আসা নাগরিকদের বিভিন্ন কাজে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

ঋণের টাকায় রাশিয়া গিয়ে যুদ্ধবন্দি গাইবান্ধার রিমেল

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি-সংক্রান্ত চিঠিপত্র, নথি অ্যাটেস্টেশন, জন্মনিবন্ধন সংশোধন, বিভিন্ন নথির সত্যায়ন, পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সেবা, নাম সংশোধনসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রমে মাসের পর মাস বিলম্ব হয়েছে। অনেক আবেদনকারীকে নথি ঢাকায় পাঠানোর অজুহাতে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মিশরে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদে মতে, গত কয়েক বছরে দূতাবাসের সেবার মান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে যেসব অভিযোগ সামনে এসেছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাদের প্রত্যাশা, নতুন রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দূতাবাসে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, মানবিক ও সেবাকেন্দ্রিক পরিবেশ নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে অতীতের অভিযোগগুলোও যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আরটিভি/এমএম