images

ধর্ম

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গঠনে যে প্রশিক্ষণ দেয় রমজান

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ , ০৭:১৫ পিএম

রমজান মাস মুসলমানদের জন্য আত্মসংযম, ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির সময়। তবে ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি এই মাস মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন এবং নির্দিষ্ট সময়ে খাবার গ্রহণের মাধ্যমে রমজান এক ধরনের বাস্তব প্রশিক্ষণ দেয়, যা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

রমজানে ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকার কারণে মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় একটি নির্দিষ্ট শৃঙ্খলা তৈরি হয়। সেহরি ও ইফতার—এই দুই সময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে সারাদিনের খাবার। ফলে অনেকেই খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে সচেতন ও পরিকল্পিত হতে বাধ্য হন। চিকিৎসকদের মতে, নির্দিষ্ট সময়ে খাবার গ্রহণের এই অভ্যাস শরীরের পরিপাকতন্ত্রের জন্যও উপকারী।

দীর্ঘ সময় রোজা রাখার ফলে শরীরের পরিপাকতন্ত্র কিছুটা বিশ্রাম পাওয়ার সুযোগ পায়। এতে হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে এবং শরীরের বিপাকক্রিয়াও সুষমভাবে কাজ করতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে রমজানে খাদ্যাভ্যাসে সংযম আসার ফলে অতিরিক্ত খাওয়া কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

পুষ্টিবিদদের মতে, সেহরিতে পুষ্টিকর ও শক্তিদায়ক খাবার গ্রহণ করা জরুরি। ভাত, ডাল, ডিম, সবজি, দুধ কিংবা ফলমূলের মতো খাবার শরীরে দীর্ঘ সময় শক্তি জোগাতে সহায়তা করে। অন্যদিকে ইফতারে খেজুর ও পানি দিয়ে রোজা ভাঙা সুন্নত হওয়ায় এটি স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও উপকারী বলে মনে করা হয়। এরপর হালকা ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করলে শরীর দ্রুত শক্তি ফিরে পায়।

তবে অনেক সময় ইফতারের টেবিলে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও তেলচর্বিযুক্ত খাবারের আধিক্য দেখা যায়, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। পুষ্টিবিদরা বলছেন, ইফতারে বেশি করে ফল, সবজি, সালাদ ও পানি গ্রহণ করলে শরীরের পানিশূন্যতা দূর হয় এবং পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

আপন ভাই–বোনকে ফিতরা দেওয়া যাবে কি?

রমজান মানুষকে শুধু খাবারের ধরন নয়, খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের শিক্ষাও দেয়। দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করলে শরীরের ওপর চাপ পড়ে—এই অভিজ্ঞতা থেকে অনেকেই ধীরে ধীরে পরিমিত খাবার গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তোলেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রমজানের এই শৃঙ্খলাপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস যদি বছরের অন্য সময়েও বজায় রাখা যায়, তাহলে তা সুস্থ জীবনযাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরটিভি/এমএইচজে