ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

আপন ভাই–বোনকে ফিতরা দেওয়া যাবে কি?

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম

রমজান মাসের শেষে মুসলমানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা আদায় করা। ঈদের আনন্দে দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত মানুষদের শরিক করার উদ্দেশ্যে এই দান নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ফিতরা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—নিজের আপন ভাই বা বোনকে কি ফিতরা দেওয়া যাবে?

ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, ফিতরা মূলত সেইসব মুসলমানের জন্য নির্ধারিত যারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল এবং নিজেদের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণে হিমশিম খান। অর্থাৎ যারা যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত, তারাই সাধারণত ফিতরারও উপযুক্ত প্রাপক।

তবে ইসলামী বিধানে কিছু নিকটাত্মীয় রয়েছেন, যাদেরকে জাকাত বা ফিতরা দেওয়া বৈধ নয়। যেমন—নিজের পিতা-মাতা, দাদা-দাদি, নানা-নানি কিংবা নিজের সন্তান-সন্ততি। কারণ তাদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যদের ওপর বর্তায়। ফলে তাদেরকে জাকাত বা ফিতরা দেওয়া দানের আওতায় পড়ে না।

ভাই-বোনের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। শরিয়তের দৃষ্টিতে সাধারণ অবস্থায় একজন ব্যক্তির ওপর তার ভাই বা বোনের ভরণ-পোষণের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব থাকে না। তাই যদি কোনো ভাই বা বোন আর্থিকভাবে দুর্বল হন এবং যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হন, তাহলে তাদেরকে ফিতরা দেওয়া বৈধ।

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, আত্মীয়স্বজনের মধ্যে দরিদ্র কাউকে সাহায্য করা বিশেষভাবে সওয়াবের কাজ। এতে একদিকে যেমন দানের সওয়াব পাওয়া যায়, অন্যদিকে আত্মীয়তার বন্ধনও দৃঢ় হয়। তাই অনেক আলেমই মনে করেন, আশপাশে যদি দরিদ্র আত্মীয় থাকেন, তবে তাদেরকে সাহায্য করা আরও উত্তম।

তবে একটি বিষয় এখানে গুরুত্বপূর্ণ। যদি কোনো ছোট ভাই বা বোন এমন অবস্থায় থাকে যে তার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পরিবারের কারও ওপর বাধ্যতামূলক হয়ে যায়—যেমন অপ্রাপ্তবয়স্ক বা সম্পূর্ণ নির্ভরশীল—তাহলে তাকে ফিতরা দেওয়া ঠিক হবে না। কারণ তখন তার প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করা অভিভাবকের দায়িত্ব হিসেবেই বিবেচিত হবে।

অন্যদিকে যদি ভাই বা বোন প্রাপ্তবয়স্ক হন এবং আর্থিকভাবে কষ্টে জীবনযাপন করেন, তাহলে তাদেরকে ফিতরা দেওয়া শরিয়তসম্মত। বিশেষ করে যদি তারা প্রকৃত অর্থেই দরিদ্র হন, তাহলে তাদের পাশে দাঁড়ানো ইসলামি মূল্যবোধের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ফিতরা আদায়ের সময় নিয়েও ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাধারণত ঈদের নামাজের আগে ফিতরা আদায় করা উত্তম বলে বিবেচিত হয়, যাতে দরিদ্র মানুষরা ঈদের দিন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে পারেন। তবে রমজানের শেষ কয়েক দিন আগেই ফিতরা প্রদান করাও বৈধ।

আরও পড়ুন

সব মিলিয়ে ইসলামী বিধান অনুযায়ী বলা যায়, যদি ভাই বা বোন আর্থিকভাবে অসচ্ছল হন এবং জাকাত বা ফিতরার উপযুক্ত প্রাপক হন, তাহলে তাদেরকে ফিতরা দেওয়া জায়েজ। বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি আরও উত্তম হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ এতে পারিবারিক সম্পর্কের বন্ধনও দৃঢ় হয়।

রমজানের শিক্ষা হলো সহমর্মিতা, মানবিকতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা। তাই ফিতরা দেওয়ার সময় নিজের আশপাশের দরিদ্র আত্মীয়দের খোঁজ নেওয়া এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোই ইসলামের প্রকৃত চেতনার প্রতিফলন।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজকের নামাজের সময়সূচি
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
আজকের নামাজের সময়সূচি
বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
বাংলাদেশে আসছেন মাওলানা হানিফ জালান্ধরি
রাজধানীর দক্ষিণখান কেন্দ্রীয় কবরস্থান সংলগ্ন মধুবাগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক বৃহৎ ‘ঈসালে সওয়াব মাহফিল’। আগামী ২২ নভেম্বর (রোববার) এই মাহফিলে প্রধান আলোচক হিসেবে বয়ান করবেন পাকিস্তানের বিখ্যাত আলেম মাওলানা মুহাম্মদ হানিফ জালান্ধরি। মাহফিল পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার দক্ষিণখান কেন্দ্রীয় কবরস্থান (ওয়ার্ড-৪৮, মধুবাগ, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০) প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এই মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।  উক্ত অনুষ্ঠানে মাগরিব নামাজের পর প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান করবেন মাওলানা কারি মুহাম্মদ হানিফ জালান্ধরি। এছাড়া মাহফিলে বিশেষ আলোচক হিসেবে বাদ আছর বয়ান করবেন জাগ্রত কবি মাওলানা মুহিব খান। সকাল ১০টা থেকেই দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরামের দ্বীনি আলোচনা শুরু হবে।    আয়োজকদের পক্ষ থেকে মুফতি বখতিয়ার হোসাইন সরদার সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাহফিলে উপস্থিত হয়ে আখিরাতের সওয়াব হাসিল এবং মৃত স্বজনদের ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশে কুরআন শরিফ ও কালিমার খতম পাঠ করে দোয়ায় অংশ নেয়ার আহ্বান জানান।  আরটিভি/এসআর  
বাংলাদেশে আসছেন মাওলানা হানিফ জালান্ধরি
আজকের নামাজের সময়সূচি
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংস্থাগুলোর হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস শুরু এবং ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য সময়সূচির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে (Astronomical calculations Ramadan start date 2027)। 
রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
আরও পড়ুন
ফিতরা কার ওপর ওয়াজিব, কাকে দেবেন
ফিতরা আদায়ের সঠিক সময়
চলতি বছরের ফিতরা নির্ধারণ