বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬ , ০৬:১৫ পিএম
কোরআনের বিভিন্ন আয়াত এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একাধিক হাদিসে কেয়ামত বা মহাপ্রলয় অত্যন্ত কাছে বলে সতর্ক করা হয়েছে। দেড় হাজার বছর আগে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর আগমন ও কেয়ামতকে হাতের দুই আঙুলের মতো কাছাকাছি বলেছিলেন।
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে—এত দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও কেন কেয়ামত হলো না? ইসলামের দৃষ্টিতে এই ‘কাছাকাছি’ হওয়ার বিষয়টি কয়েকটি তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়ে স্পষ্ট করা হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন দুই আঙুল উঁচিয়ে কেয়ামতের নৈকট্য বুঝিয়েছিলেন, তার মূল অর্থ ছিল তিনি শেষ নবী। তর্জনী ও মধ্যমা আঙুলের মাঝে যেমন অন্য কোনো আঙুল নেই, তেমনি তাঁর এবং কেয়ামতের মাঝে আর কোনো নবী আসবেন না।
পূর্ববর্তী নবীদের উম্মতরা জানতেন যে তাদের সময়ে কেয়ামত হবে না, কারণ শেষ নবীর আগমন তখনো বাকি ছিল। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আগমনের অর্থই হলো—পৃথিবীর সময় শেষ হয়ে আসছে এবং কেয়ামতের কাউন্টডাউন বা গণনা শুরু হয়ে গেছে।
সময় বা দূরত্বের বিষয়টি সর্বদা আপেক্ষিক। মহাবিশ্বের বা পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ বছরের ইতিহাসের তুলনায় এক বা দুই হাজার বছর অত্যন্ত নগণ্য। নবী (সা.)-এর আগমনকে কেয়ামতের ‘নাসাম’ বা মৃদুমন্দ বায়ুপ্রবাহের শুরুর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। অর্থাৎ তাঁর আগমন কেয়ামতের মহাধ্বংসের সূচনাপর্ব মাত্র। অন্যান্য বড় নিদর্শনগুলো প্রকাশিত হওয়ার পরই চূড়ান্ত পরিণতি আসবে।
হাদিসে পূর্ববর্তী উম্মতগুলোর তুলনায় বর্তমান উম্মতের সময়কালকে আসর ও মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। সূর্যোদয় থেকে আসর পর্যন্ত সময়টা যদি মানব সভ্যতার অতীত ইতিহাস হয়, তবে আসর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সামান্য সময়টুকু হলো শেষ উম্মতের আয়ুষ্কাল। আধুনিক বিজ্ঞান ও ইতিহাসের আলোকে বিচার করলেও দেখা যায়, পৃথিবীর আদি ইতিহাসের তুলনায় বর্তমান সময়টি সত্যিই অতি সামান্য।
কেয়ামত কখন হবে, এর সুনির্দিষ্ট তারিখ ও সময় আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেন না। কোরআনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কিয়ামতের জ্ঞান শুধু আল্লাহর কাছে আছে। (সুরা লুকমান, আয়াত: ৩৪)।
ইসলামের মূল শিক্ষা অনুযায়ী, কেয়ামত কবে হবে সেই গবেষণার চেয়ে বড় বিষয় হলো—সেই কঠিন সময়ের জন্য মানুষ নিজেকে কতটা প্রস্তুত করতে পেরেছে।
আরটিভি/এমআই