ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

জান্নাতে গিয়েও কি আফসোস থাকবে?

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত

মানুষের মনে প্রায়ই একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খায়, জান্নাতে যাওয়ার পরও কি কোনো বিষয়ে আফসোস থাকবে? কেউ কেউ মনে করেন, যারা অন্যদের তুলনায় ছোট জান্নাত লাভ করবে, তারা হয়তো সেখানে গিয়েও কিছুটা আফসোস অনুভব করবে। তবে ইসলামী শিক্ষার আলোকে আলেমরা বলছেন, এই ধারণা সঠিক নয়। জান্নাতে প্রবেশ করার পর সেখানে কোনো ধরনের আফসোস বা কষ্ট থাকবে না।

ইসলামে জান্নাতকে এমন এক স্থান হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে মানুষের জীবনের সব দুঃখ-কষ্ট, ক্লান্তি ও হতাশার অবসান ঘটবে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ জান্নাতবাসীদের অবস্থা বর্ণনা করে বলেন, সেখানে তাদেরকে কোনো কষ্ট স্পর্শ করবে না এবং কোনো ক্লান্তিও তাদের গ্রাস করবে না। (সুরা ফাতির, ৩৫)

আলেমদের মতে, আফসোস মূলত মানসিক কষ্টের একটি রূপ। কিন্তু জান্নাত এমন এক জায়গা, যেখানে কোনো ধরনের দুঃখ, কষ্ট বা মানসিক অস্বস্তির স্থান নেই। তাই জান্নাতে প্রবেশ করার পর সেখানে আফসোস থাকার প্রশ্নই ওঠে না।

আরও পড়ুন

তবে এ প্রসঙ্গে একটি হাদিস প্রায়ই আলোচনায় আসে। সাহাবি মুআজ ইবনে জাবাল রা.-এর বর্ণনায় বলা হয়েছে, মহানবী রাসুল (সা.) বলেছেন, জান্নাতবাসীরা কেবল একটি বিষয় নিয়ে আফসোস করবে। আর তা হলো পৃথিবীতে কাটানো সেই সময়গুলো, যেগুলো তারা আল্লাহর স্মরণ ছাড়া অতিবাহিত করেছে। (আল-মুজামুল কাবির লিত তবারানি, ১৮২)

তবে এই হাদিসটির বিশুদ্ধতা নিয়ে কিছু আলেমের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অনেক গবেষক বলেছেন, যদি হাদিসটি গ্রহণযোগ্য ধরা হয়, তাহলেও এর অর্থ এই নয় যে জান্নাতের ভেতরে গিয়ে মানুষ আফসোস করবে। বরং এর অর্থ হলো, কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে যখন মানুষের কর্মের হিসাব নেওয়া হবে, তখন তারা পৃথিবীতে আল্লাহর স্মরণ ছাড়া কাটানো সময়ের জন্য আফসোস করবে।

বিখ্যাত হাদিস-ব্যাখ্যাতা হাফেয মুনাবি রহ. ফায়যুল কাদির (৫/৩৯০) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, এই আফসোসের বিষয়টি জান্নাতের ভেতরে নয়; বরং কিয়ামতের দিন হিসাবের ময়দানে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর সময় ঘটবে।

ইসলামী গবেষকদের মতে, জান্নাত এমন এক চিরশান্তির স্থান, যেখানে মানুষ সব ধরনের কষ্ট, ভয়, দুশ্চিন্তা এবং আফসোস থেকে মুক্ত থাকবে। তাই যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারা সেখানে সম্পূর্ণ প্রশান্তি ও আনন্দের মধ্যেই অবস্থান করবে।

সব মিলিয়ে ইসলামী ব্যাখ্যায় স্পষ্ট করা হয়েছে, জান্নাতে প্রবেশ করার পর মানুষের মনে কোনো আফসোস থাকবে না। তবে পৃথিবীতে আল্লাহর স্মরণ ছাড়া কাটানো সময়ের জন্য অনুতাপ হতে পারে। আর তা হবে কিয়ামতের দিন হিসাবের সময়, জান্নাতে প্রবেশ করার পরে নয়।

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
স্ত্রীকে ‘বোন’ বা স্বামীকে ‘ভাই’ ডাকলে কি বিয়ে ভেঙে যায়?
স্বামী স্ত্রীকে ‘বোন’ কিংবা স্ত্রী স্বামীকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করলে কি বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটে? এমন প্রশ্ন অনেকের মনেই রয়েছে।
স্ত্রীকে ‘বোন’ বা স্বামীকে ‘ভাই’ ডাকলে কি বিয়ে ভেঙে যায়?
আজকের নামাজের সময়সূচি
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম একটি হলো নামাজ। পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে এটি দ্বিতীয়। সে কারণে নামাজ নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা জরুরি।
আজকের নামাজের সময়সূচি
কন্যাসন্তান নিয়ে কোরআন যা বলেছে
কন্যাসন্তানের জন্মকে অপমান নয়, সুসংবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছে কোরআন। মেয়ের প্রতি অবহেলা, উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং বিয়েতে মতামত উপেক্ষা করার বিষয়ে রয়েছে ইসলামের স্পষ্ট নির্দেশনা।
কন্যাসন্তান নিয়ে কোরআন যা বলেছে
যেভাবে এলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
কালেমার পর ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ হলো নামাজ। নামাজ আদায়ের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে ৮২ বার বলা হয়েছে। তাই দৈনিক  পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ওয়াক্তমতো আদায় করা প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধি-জ্ঞানসম্পন্ন নারী ও পুরুষের ফরজ করা হয়েছে। কিন্তু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কীভাবে এলো সে বিষয়ে জানবো।
যেভাবে এলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
মানুষের চোখে ছোট, আল্লাহর কাছে বড় ৭ আমল
মানুষের চোখে সাধারণ মনে হলেও আল্লাহর কাছে মূল্যবান হতে পারে ছোট ছোট কিছু নেক আমল। হাসিমুখে কথা বলা, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া কিংবা গোপনে কারও জন্য দোয়া করার মতো কাজও হতে পারে সওয়াব অর্জনের মাধ্যম।
মানুষের চোখে ছোট, আল্লাহর কাছে বড় ৭ আমল
আরও পড়ুন
শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
১৪ দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্রে চরমোনাই পীর
মানুষের চোখে ছোট, আল্লাহর কাছে বড় ৭ আমল
প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছি, কী করবে সেটা তাদের ব্যাপার: অবরুদ্ধ চুয়েট উপাচার্য