images

ধর্ম

হজে মেলে গুনাহ মাফের সুখবর 

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ , ১০:১৮ এএম

ঈমানের পর ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত হলো হজ। এটি মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বরকতময় ইবাদত। সামর্থ্যবান প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য জীবনে অন্তত একবার হজ পালন করা আবশ্যক।

ইসলামি শরিয়তের ভাষায়, নির্দিষ্ট সময়ে পবিত্র কাবাঘর জিয়ারত করা এবং মক্কার আশপাশের মীনা, মুজদালিফা ও আরাফার ময়দানে নির্ধারিত নিয়মে কিছু ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাত আমল সম্পন্ন করাকেই হজ বলা হয়। এই ইবাদতের মাধ্যমে একজন মুসলমান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘মানুষের মধ্যে যাদের বাইতুল্লাহ জিয়ারতের সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ওই গৃহের হজ করা তাদের অবশ্য কর্তব্য’ (সূরা আলে ইমরান ৯৭)। তাই সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ পালন না করা ইসলামের দৃষ্টিতে বড় বঞ্চনার বিষয়।

হজ পালনকারীদের ইসলাম বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে, 'হজ আদায়কারী ব্যক্তি আল্লাহর মেহমান এবং তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতে বড় পুরস্কার'। নবী করিম (সা.) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হজ আদায় করে এবং গুনাহ ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকে, সে মাতৃগর্ভ থেকে সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসে' (বুখারি, মুসলিম)। 

রাসূল (সা.) আরও বলেছেন, ‘জান্নাতই হচ্ছে একমাত্র মাকবুল (বা গ্রহণযোগ্য বা কবুল) হজের পুরস্কার বা প্রতিদান’। (বুখারি ও মুসলিম) 

আবার আরাফার দিনের ব্যাপারে বলা হয়েছে, এ দিনে আল্লাহ অসংখ্য মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। যা অন্য কোনো দিন দেন না। এদিন আল্লাহতায়ালা নিকটবর্তী হন ও আরাফার ময়দানে অবস্থানরত হাজিদের নিয়ে তিনি ফেরেশতাদের সঙ্গে গর্ব করেন ও বলেন, ‘ওরা কী চায়?।’  

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

জান্নাতে গিয়েও কি আফসোস থাকবে?

ইসলামে মাবরুর হজকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে নবী (সা.) বলেছেন, 'উত্তম আমল হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান, তারপর আল্লাহর পথে সংগ্রাম, এরপর মাবরুর হজ' (বুখারি, মুসলিম)। 

আরও একটি হাদিসে বলা হয়েছে, 'এক উমরা থেকে আরেক উমরার মধ্যবর্তী পাপের জন্য তা ক্ষমার কারণ হয় এবং কবুল হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া অন্য কিছু নয়' (বুখারি, মুসলিম)। 

এছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, 'যার হজ করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সে হজ আদায় করল না, তার জন্য এটি বড় দুর্ভাগ্যের বিষয় (তিরমিজি)।  

ধর্মবিশারদদের মতে, জীবনে ধনসম্পদ ও সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ হজ আদায় না করেন, তবে তা বড় দুর্ভাগ্যের বিষয়। তাই সুযোগ ও সামর্থ্য হলে প্রত্যেক মুসলমানেরই এই ফরজ ইবাদত পালনের চেষ্টা করা উচিত।

শেষে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন সব মুসলমানকে জীবনে অন্তত একবার তাঁর ঘরের মেহমান হওয়ার তাওফিক দান করেন।


আরটিভি/জেএমএ