শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬ , ১০:২৪ এএম
ইসলামে কুরবানী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে প্রমাণিত। এটি শুধু একটি সামাজিক প্রথা নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নির্ধারিত একটি বিশেষ ইবাদত।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন—
“قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ”
অর্থ: “নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু সবকিছু আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের জন্য।” (সূরা আল-আনআম: ১৬২)
অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন—
“فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ”
অর্থ: “অতএব তুমি তোমার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ো এবং কুরবানী করো।” (সূরা আল-কাউসার: ২)
হাদিসে কুরবানীর গুরুত্ব তুলে ধরে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানী করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়।” (সুনানে ইবনে মাজাহ)
অন্য হাদিসে কুরবানীর নিয়ম বর্ণনা করতে গিয়ে বলা হয়েছে, নবীজি (সা.) বলেছেন—যিলহজ্বের ১০ তারিখে ঈদের নামাজ আদায়ের পর কুরবানী করতে হবে। (সহীহ বুখারী)
হাদিসে আরও এসেছে, কুরবানী শুধু গোশত খাওয়ার জন্য নয়; বরং এটি একটি ইবাদত, যার মূল উদ্দেশ্য আল্লাহর নৈকট্য লাভ।
ইসলামি স্কলারদের মতে, কুরবানী হলো ইব্রাহীমী মিল্লাতের অনুসরণ, তাই একে সুন্নতে ইব্রাহীমী বলা হয়। এটি যিলহজ্বের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে আদায় করা হয়।
আলেমরা বলেন, কুরবানী ইসলামের শিয়ার বা প্রকাশ্য ইবাদতগুলোর একটি, যা নবীজি (সা.) নিয়মিত পালন করেছেন এবং উম্মতকে পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। তাই কুরবানীর মূল শিক্ষা হলো আত্মত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করা।
আরটিভি/জেএমএ