মানবজীবনের সৃষ্টি, তাকদীর এবং শেষ পরিণতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস বর্ণিত হয়েছে সহীহ বুখারীতে।
এতে বলা হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রতিটি মানুষ মাতৃগর্ভে প্রথমে ৪০ দিন শুক্ররূপে, এরপর ৪০ দিন রক্তপিণ্ড এবং পরবর্তী ৪০ দিন মাংসপিণ্ড হিসেবে অবস্থান করে। এরপর আল্লাহ তায়ালা একজন ফেরেশতা প্রেরণ করেন, যিনি মানুষের রিজিক, মৃত্যু, সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য লিখে দেন।
হাদিসে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বাহ্যিকভাবে দীর্ঘ সময় জান্নাতবাসীর মতো আমল করলেও শেষ মুহূর্তে তার তাকদীর অনুযায়ী তার আমলের পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে এবং সে জাহান্নামের পথে চলে যেতে পারে। আবার কেউ জাহান্নামের আমল করতে করতে শেষ মুহূর্তে পরিবর্তিত হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে।
এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, তাকদীরের ওপর ঈমান আনা ইসলামের একটি মৌলিক অংশ। আল্লাহ তায়ালা মানুষের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখেন এবং সেই জ্ঞানের ভিত্তিতেই সবকিছু নির্ধারিত হয়।
এতে আরও বলা হয়, মানুষকে বিবেক ও স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দেওয়া হয়েছে। যার মাধ্যমে সে ভালো ও মন্দ পথ বেছে নেয়। তবে আল্লাহ তায়ালা আগেই জানেন তার চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে।
ইসলামি আলেমদের মতে, এই হাদিস থেকে শিক্ষা হলো—মানুষের শেষ আমলই তার পরিণতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। তাই জীবনের শেষ পর্যন্ত নেক আমলের ওপর অটল থাকা অত্যন্ত জরুরি।
এছাড়া শেষ পরিণতি ভালো হওয়ার জন্য সর্বদা আল্লাহর কাছে দোয়া করারও গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
আরটিভি/জেএমএ




