শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬ , ১১:০৬ এএম
ইসলামে সপ্তাহের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিন হলো শুক্রবার জুমার দিন। এ দিনকে আল্লাহ তায়ালা বিশেষভাবে সম্মানিত করেছেন এবং মুমিনদের জন্য একাধিক ইবাদত নির্ধারণ করেছেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— “জুমার দিন দিনসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত।” (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৮৪)
আরও এসেছে— “জুমার দিন হলো দিনসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। এ দিন আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এ দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।” (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫৪)
কুরআনে জুমার নির্দেশ
আল্লাহ তায়ালা বলেন— “হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং কেনাবেচা বন্ধ করো।” (সূরা জুমা, আয়াত: ৯)
আরও বলা হয়েছে— “যখন নামাজ শেষ হয়ে যায়, তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করো।” (সূরা জুমা, আয়াত: ১০)
শুক্রবারের গুরুত্বপূর্ণ আমল:
গোসল ও পরিচ্ছন্নতা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— “যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে, সুগন্ধি ব্যবহার করে এবং খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনে, তার এক জুমা থেকে পরের জুমা পর্যন্ত গুনাহ মাফ করা হয়।” (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫৭)
সুগন্ধি ও উত্তম পোশাক
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন— “জুমার দিন সুগন্ধি পাওয়া গেলে তা ব্যবহার করবে।” (সহীহ বুখারি, হাদিস: ৮৮০)
দ্রুত মসজিদে যাওয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— “জুমার দিন ফেরেশতারা মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে আগমনকারীদের নাম লিখে রাখে।” (সহীহ বুখারি, হাদিস: ৯২৯)
খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা
আল্লাহ তায়ালা বলেন— “যখন কুরআন তিলাওয়াত করা হয়, তখন মনোযোগ দিয়ে শোনো ও চুপ থাকো, যাতে তোমাদের প্রতি দয়া করা হয়।” (সূরা আরাফ, আয়াত: ২০৪)
সূরা কাহাফ তিলাওয়াত
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— “যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করবে, সে এক সপ্তাহ পর্যন্ত ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।” (আল-আহাদিসুল মুখতারা: ৪২৯)
দরুদ শরিফ বেশি পাঠ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— “জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো, কারণ তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।” (সুনানুল কুবরা, হাদিস: ৬২০৮)
বিশেষ দোয়ার সময়
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— “জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, যখন কোনো মুসলমান দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৮)
ইসলাম জুমার দিনকে শুধু নামাজের দিন নয়, বরং ইবাদত, দোয়া, কুরআন তিলাওয়াত ও আত্মশুদ্ধির বিশেষ সুযোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে। মুমিনদের জন্য এই দিনটি হলো আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত অর্জনের এক অনন্য সুযোগ।
আরটিভি/জেএমএ