মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ , ০৯:৫৭ এএম
ইসলামে কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যার মূল লক্ষ্য আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও তাকওয়া অর্জন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা নামাজের সঙ্গে কোরবানির নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন—
فَصَلِّ لِرَبِّکَ وَ انۡحَرۡ
অর্থাৎ: ‘সুতরাং তোমার রবের উদ্দেশে নামাজ আদায় কর ও কোরবানি কর।’ (সুরা কাওসার: আয়াত ২)
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَالۡبُدۡنَ جَعَلۡنٰهَا لَکُمۡ مِّنۡ شَعَآئِرِ اللّٰهِ... لَنۡ یَّنَالَ اللّٰهَ لُحُوۡمُهَا وَلَا دِمَآؤُهَا وَلٰکِنۡ یَّنَالُهُ التَّقۡوٰی مِنۡکُمۡ...
অর্থাৎ: ‘আল্লাহর কাছে এগুলোর গোশত বা রক্ত পৌঁছে না, বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।’ (সুরা হজ: আয়াত ৩৬-৩৭)
সুন্দর ও নিখুঁত পশুই গ্রহণযোগ্য
হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্দর, হৃষ্টপুষ্ট ও দোষমুক্ত মেষ কোরবানি করেছেন। (ইবনে মাজাহ: ৩১২৮)
অর্থাৎ কোরবানির পশু হতে হবে শক্তিশালী, সুস্থ ও দৃষ্টিনন্দন।
যেসব দোষে কোরবানি শুদ্ধ হবে না
ইসলামি বিধান অনুযায়ী কিছু শারীরিক ত্রুটি থাকলে সেই পশু কোরবানির জন্য গ্রহণযোগ্য নয়—
১. অন্ধ পশু
যে পশু সম্পূর্ণ অন্ধ, তা দিয়ে কোরবানি বৈধ নয়।
২. পঙ্গু বা খোঁড়া পশু
যে পশু ঠিকভাবে হাঁটতে পারে না, তা কোরবানির উপযুক্ত নয়।
৩. গুরুতর আহত বা অঙ্গভাঙা পশু
যার শরীরে বড় ধরনের আঘাত বা ভাঙা অঙ্গ রয়েছে, সে পশু অযোগ্য।
৪. দাঁতহীন পশু
যে পশু অধিকাংশ দাঁত হারিয়ে খাবার খেতে পারে না, তা গ্রহণযোগ্য নয়।
৫. শিং গোড়া থেকে ভাঙা পশু
যদি শিং মূল থেকে ভেঙে মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে, তবে কোরবানি শুদ্ধ হবে না।
৬. লেজ বা কানের বড় অংশ কাটা পশু
লেজ বা কানের অর্ধেক বা তার বেশি কাটা থাকলে তা দিয়ে কোরবানি বৈধ নয়।
তবে জন্মগতভাবে ছোট কান, ছোট লেজ বা স্বাভাবিক শারীরিক ভিন্নতা থাকলে তা দোষ হিসেবে গণ্য হবে না।
ইবাদতের শুদ্ধতার মূল শিক্ষা
কোরবানি শুধু বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি একটি হৃদয়ের ইবাদত। তাই পশু নির্বাচন থেকে শুরু করে জবাই পর্যন্ত সবকিছুতেই সতর্কতা ও শরিয়তের নিয়ম মানা জরুরি।
সঠিক পশু নির্বাচন করলে তবেই এই ইবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়ার আশা করা যায়।
আরটিভি/জেএমএ