images

ধর্ম

কোরবানির গোশত ৩ দিনের বেশি রাখা জায়েজ?

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ , ০৩:০০ পিএম

কোরবানি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা ত্যাগ ও আল্লাহভীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। হযরত আদম (আ.)–এর সময় থেকে শুরু হয়ে হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও হযরত ইসমাইল (আ.)–এর মহান আত্মত্যাগের মাধ্যমে এই ইবাদত মুসলিম উম্মাহর জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।

প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলমান, যিনি মুকিম অবস্থায় ১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকবেন, তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়। নেসাব হলো—সোনার ক্ষেত্রে সাড়ে সাত ভরি এবং রুপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন ভরি, অথবা এর সমমূল্যের সম্পদ।

কোরবানির গোশত সংরক্ষণ নিয়ে সমাজে অনেক প্রশ্ন থাকে—বিশেষ করে, ৩ দিনের বেশি রাখা যাবে কি না।

ইসলামি ইতিহাস অনুযায়ী, মদিনার প্রথম যুগে খাদ্য সংকট ছিল। তখন নবীজি (সা.) সাহাবায়ে কেরামকে কোরবানির গোশত তিন দিনের বেশি জমিয়ে রাখতে নিষেধ করেছিলেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তিনি সংরক্ষণ করার অনুমতি দেন।

আরও পড়ুন
Web-Image

এক ভাগে দুই ভাই মিলে কোরবানি দেওয়া কী জায়েজ   

হাদিসে হযরত জাবির (রা.) বলেন— “নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন দিনের পর কোরবানির গোশত খেতে নিষেধ করেছিলেন। এরপর বললেন, খাও, পাথেয় হিসেবে সঙ্গে নাও এবং সংরক্ষণ করে রাখ।” (মুসলিম: ১৯৭২)

আরেক হাদিসে এসেছে— “আমি তোমাদেরকে তিন দিনের পর কোরবানির গোশত খেতে নিষেধ করেছিলাম, যাতে সচ্ছল ব্যক্তিরা অসচ্ছলদের তা দিতে পারে। এখন তোমরা খাও, অন্যকে খাওয়াও এবং সংরক্ষণ করো।” (তিরমিজি: ১৫১০)

এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন— “আল্লাহর কাছে পৌঁছে না তাদের গোশত এবং না তাদের রক্ত, বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। এভাবেই তিনি এসব পশুকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করো, কারণ তিনি তোমাদেরকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন। আর সৎকর্মশীলদের সুসংবাদ দিন।” (সূরা আল-হজ: ৩৭)

তাই কোরবানির গোশত ৩ দিনের বেশি সংরক্ষণ করা সম্পূর্ণ জায়েজ। তবে মূল উদ্দেশ্য হলো গরিব-দুঃখীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া, তাকওয়া অর্জন করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা।


আরটিভি/জেএমএ