শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ , ০৯:২৪ এএম
পবিত্র ঈদুল আজহা ত্যাগ, আনুগত্য ও তাকওয়ার মহিমান্বিত এক উৎসব। এই ঈদে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ইবাদত হলো কোরবানি, যা পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—
«فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ»
অর্থ: “অতএব তুমি তোমার রবের উদ্দেশে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো।” — (সুরা আল-কাওসার: ২)
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন এবং নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক প্রত্যেক মুসলিমের ওপর কোরবানি ওয়াজিব। তবে অনেকেই কোরবানির পশুর বয়স নিয়ে দ্বিধায় থাকেন।
এ বিষয়ে ইসলামি বিধান অনুযায়ী পশুর নির্দিষ্ট বয়স থাকতে হবে।
কোরবানির পশুর বয়স কত হতে হবে?
ইসলামি বিধান অনুযায়ী—
১. উটের বয়স কমপক্ষে ৫ বছর হতে হবে
২. গরু ও মহিষের বয়স কমপক্ষে ২ বছর হতে হবে
৩. ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার বয়স কমপক্ষে ১ বছর হতে হবে
তবে ভেড়া ও দুম্বার ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় রয়েছে। যদি কোনো ভেড়া বা দুম্বা ১ বছরের কিছু কমও হয়, কিন্তু দেখতে এক বছরের মতো হৃষ্টপুষ্ট হয়, তাহলে তা দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ। তবে এক্ষেত্রে কমপক্ষে ৬ মাস বয়স হতে হবে।
অন্যদিকে ছাগলের বয়স ১ বছরের কম হলে কোনো অবস্থাতেই তা দিয়ে কোরবানি করা যাবে না।
ইসলামি আলেমরা বলেছেন, কোরবানির পশু নির্বাচনে বয়স ও শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করা জরুরি, কারণ এটি ইবাদতের অংশ।
এ বিষয়ে এক হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“যার কোরবানির সামর্থ্য আছে, তবুও সে কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।” — (মুসনাদে আহমদ: ২/৩২১, মুস্তাদরাকে হাকেম: ৭৬৩৯)
ইসলামি চিন্তাবিদরা বলছেন, কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়; এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আন্তরিক ত্যাগের ইবাদত। তাই পশু কেনার আগে বয়স ও শারীরিক অবস্থা ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
আরটিভি/জেএমএ