কোরবানি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কেউ কোরবানি না করলে তার ব্যাপারে হাদিসে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে। তাই কোরবানির পশু কেনার সময় কিছু বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে বলেছেন ইসলামি চিন্তাবিদরা।
হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“যার কোরবানির সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।” — (মুস্তাদরাকে হাকেম: ৩৫১৯)
আলেমদের মতে, শুধু পশু কিনলেই হবে না, পশুটি শরিয়তের দৃষ্টিতে কোরবানির উপযুক্ত কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। কিছু ত্রুটি রয়েছে, যেসব পশু দিয়ে কোরবানি সহিহ হয় না।
যে ৪ ধরনের পশু দিয়ে কোরবানি হবে না
১. চোখে স্পষ্ট সমস্যা থাকলে
যে পশুর চোখ কোটরের ভেতরে ঢুকে গেছে, অস্বাভাবিকভাবে বের হয়ে আছে বা একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে— এমন পশু কোরবানির উপযুক্ত নয়।
২. গুরুতর অসুস্থ পশু
জ্বর, মারাত্মক চর্মরোগ বা এমন রোগে আক্রান্ত পশু, যার কারণে স্বাভাবিক চলাফেরা ও খাবার খাওয়া ব্যাহত হয়— সে পশু দিয়ে কোরবানি জায়েজ নয়।
৩. স্পষ্ট খোঁড়া পশু
যে পশু স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারে না বা খোঁড়াতে খোঁড়াতে চলে, সে পশুও কোরবানির জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
৪. অতিরিক্ত দুর্বল ও হাড্ডিসার পশু
অত্যন্ত শুকনো, দুর্বল ও হাড্ডিসার পশু, যার হাড়ে মগজ পর্যন্ত নেই— এমন পশু কোরবানি করা যাবে না।
এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“চার ধরনের পশু দ্বারা কোরবানি করা যায় না— যে পশুর চোখের অন্ধত্ব স্পষ্ট, যে পশু গুরুতর অসুস্থ, যে পশু স্পষ্ট খোঁড়া এবং যে পশু এত দুর্বল যে তার হাড়ে মগজ নেই।” — (তিরমিজি: ১৪৯৭, আবু দাউদ: ২৮০২)
আরও যেসব ত্রুটি থাকলে কোরবানি হবে না
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, যেসব পশুর দাঁত পড়ে গেছে এবং ঘাস খেতে পারে না, যাদের শিং গোড়া থেকে ভেঙে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অথবা লেজ ও কান অর্ধেকের বেশি কাটা— সেসব পশু দিয়েও কোরবানি জায়েজ নয়।
তবে জন্মগতভাবে ছোট কান বা আংশিক ভাঙা শিং থাকলে সমস্যা নেই বলে জানিয়েছেন আলেমরা।
কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়; এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের ইবাদত। তাই পশু কেনার আগে ভালোভাবে দেখে ও যাচাই করে কেনার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
আরটিভি/জেএমএ



