images

ধর্ম

শিং ভাঙা পশু কোরবানি দেওয়া কী জায়েজ

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ , ০৯:৩২ এএম

ঈদুল আজহায় কোরবানির পশু নির্বাচন নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, শিং ভাঙা বা জন্মগতভাবে শিং না থাকা পশু দিয়ে কি কোরবানি করা যাবে?

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী কোরবানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা হয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—

“আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কোরবানি নির্ধারণ করেছি, যাতে তারা হালাল পশু জবাই করার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে।” (সুরা হজ, আয়াত : ৩৪)

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে—

“আল্লাহর কাছে কোরবানির পশুর গোশত বা রক্ত পৌঁছে না, বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।” (সুরা হজ, আয়াত : ৩৭)

হাদিসে এসেছে, কোরবানি হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নত এবং এতে প্রতিটি পশুর পশমের বিনিময়ে নেকি দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন
Web-Image

অনলাইনে কোরবানির পশু কেনার আগে সতর্ক হন 

ইসলামি বিধান অনুযায়ী কোরবানির জন্য নির্ধারিত ছয় ধরনের পশু হলো—উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা। এগুলো ছাড়া অন্য কোনো পশু দিয়ে কোরবানি করা বৈধ নয়।

পশুর বয়সের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে—ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার বয়স অন্তত এক বছর, গরু ও মহিষের দুই বছর এবং উটের পাঁচ বছর হতে হবে। তবে ভেড়া যদি ছয় মাসের হয় কিন্তু দেখতে এক বছরের মতো হৃষ্টপুষ্ট হয়, তাহলে সেটিও কোরবানির জন্য গ্রহণযোগ্য।

শিং ভাঙা বা শিং না ওঠা পশু কোরবানি বিষয়ে ফিকহবিদরা বলেন, জন্মগতভাবে শিং না থাকা পশু কিংবা শিং ভেঙে যাওয়া পশু দিয়ে কোরবানি করা জায়েজ। কারণ কোরবানির জন্য শিং থাকা শর্ত নয়।

সাহাবি হযরত আলী (রা.)-এর একটি বক্তব্য অনুযায়ী, শিং ভাঙা পশু দিয়ে কোরবানি করতে কোনো সমস্যা নেই।

তবে যদি পশুর শিং এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় যে তা মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং পশুর স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়, তাহলে সেই পশু কোরবানির জন্য উপযুক্ত হবে না।

অর্থাৎ, শুধু শিং ভাঙা বা শিং না থাকা কোরবানির ক্ষেত্রে বাধা নয়—পশু সুস্থ থাকলেই সেটি কোরবানির জন্য জায়েজ বা গ্রহণযোগ্য।


আরটিভি/জেএমএ