ঈদুল আজহা সামনে এলেই অনলাইনে কোরবানির পশু কেনাবেচা বেড়ে যায়। ঘরে বসেই গরু-ছাগল কেনার সুযোগ থাকায় অনেকেই এখন ফেসবুক, বিভিন্ন অ্যাপ কিংবা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পশু কিনছেন। তবে সহজ এই ব্যবস্থার আড়ালে রয়েছে প্রতারণার ঝুঁকিও।
প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ছবি দেখে পশু কিনলে অনেক সময় অসুস্থ বা নিম্নমানের পশু পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই অনলাইনে কোরবানির পশু কেনার আগে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক বিক্রেতা সুবিধাজনকভাবে ছবি তুলে পশুকে বেশি মোটাতাজা বা সুস্থ দেখানোর চেষ্টা করেন। তাই শুধু একটি ছবি দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে পশুর সামনের, পেছনের ও দুই পাশের স্পষ্ট ছবি দেখা উচিত। সম্ভব হলে ভিডিও কলে পশু দেখার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।
ছবিতে পশুর পা ও খুর ভালোভাবে খেয়াল করতে বলা হয়েছে। কোনো পায়ে সমস্যা থাকলে বা খুরে ক্ষত দেখা গেলে তা অসুস্থতার লক্ষণ হতে পারে। এছাড়া নাক পরিষ্কার ও আর্দ্র থাকা, চোখ উজ্জ্বল হওয়া, কান সচল থাকা এবং লোম মসৃণ হওয়াকে সুস্থ পশুর লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ভিডিও দেখে পশুর নড়াচড়া ও শ্বাস-প্রশ্বাস বোঝা সহজ হয়। সুস্থ পশু সাধারণত চঞ্চল ও স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করে। অস্বাভাবিক নিস্তেজ ভাব বা শরীর ফোলা দেখলে সতর্ক হতে হবে।
অনলাইনে পশুর বয়স বোঝাও গুরুত্বপূর্ণ। দাঁতের ছবি দেখে বয়স সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। সাধারণত দুইটি স্থায়ী সামনের দাঁত উঠলে গরু কোরবানির উপযুক্ত বয়সে পৌঁছায়।
ডেলিভারির সময়ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আগে থেকেই পশুর রং, দাগ বা বিশেষ চিহ্ন মনে রাখতে হবে, যাতে অন্য পশু দিয়ে প্রতারণা করা না যায়।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, অনলাইনে কোরবানির পশু কেনা সহজ হলেও যাচাই ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। তাই তাড়াহুড়ো না করে দেখে-শুনে ও যাচাই-বাছাই করে পশু কেনাই সবচেয়ে নিরাপদ।
আরটিভি/জেএমএ




