মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ , ০৯:৫৬ এএম
ঈদুল আজহার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত কোরবানি। এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু জবাই করার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তবে কোরবানির সময় নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, ঈদের নামাজের আগে কোরবানি করা যাবে কি না।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—
“নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার ইবাদত, আমার জীবন ও মৃত্যু সবই আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক। তাঁর কোনো শরিক নেই।” (সুরা আনআম, আয়াত : ১৬২–১৬৩)
অন্য আয়াতে বলা হয়েছে—
“তোমার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো।” (সুরা কাউসার, আয়াত : ২)
হাদিস অনুযায়ী, ঈদুল আজহার দিনে কোরবানির সময় শুরু হয় ঈদের নামাজ আদায়ের পর থেকে। তাই ঈদের নামাজ শেষ হওয়ার আগে কোরবানি করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
হাদিসে এসেছে, জুনদাব ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন—রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদের নামাজ আদায় করে খুতবা দেন এবং এরপর কোরবানি করেন। তিনি বলেন, “যে নামাজের আগে কোরবানি করেছে, সে যেন পুনরায় কোরবানি করে নেয়।” (বুখারি, হাদিস : ৯৮৫)
তবে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। যেসব এলাকায় ঈদের নামাজ আদায় করা হয় না, যেমন প্রত্যন্ত গ্রাম বা নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল, সেখানে ফজরের পর থেকেই কোরবানি করা বৈধ।
ফিকহের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বড় শহর ও জনপদে যেখানে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়, সেখানে নামাজের আগে কোরবানি করা যাবে না। কিন্তু যেসব এলাকায় ঈদের জামাত হয় না, সেখানে ১০ জিলহজ ফজরের পর থেকেই কোরবানি করা যায়।
অর্থাৎ, শহর ও বড় এলাকায় ঈদের নামাজের পরই কোরবানি করতে হবে। আর যেসব এলাকায় ঈদের নামাজ নেই, সেখানে ফজরের পর থেকেই কোরবানি শুরু করা যাবে।
শরিয়তের এই বিধান অনুযায়ী সময় মেনে কোরবানি করাই ইবাদতের শুদ্ধতা ও গ্রহণযোগ্যতার শর্ত হিসেবে বিবেচিত।
আরটিভি/জেএমএ