বুধবার, ২০ মে ২০২৬ , ১২:২৩ পিএম
কোরবানি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সম্পন্ন করা হয়। বর্তমান সময়ে অনেক মুসলমান দাতব্য সংস্থা বা ইসলামী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোরবানি করে থাকেন, যাতে দূরবর্তী দরিদ্র ও অসহায় মানুষও কোরবানির গোশত পেতে পারে। তবে এতে ওয়াজিব কোরবানি আদায় হবে কি না—এ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে।
শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কোনো বিশ্বস্ত দাতব্য সংস্থা যদি শরিয়তসম্মতভাবে কোরবানির উপযুক্ত পশু ক্রয় করে নির্ধারিত সময়ে জবাই সম্পন্ন করে এবং সঠিকভাবে মাংস বিতরণ করে, তাহলে সেই সংস্থার মাধ্যমে কোরবানি করালে ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে।
ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, কোরবানির ক্ষেত্রে নিজে উপস্থিত থাকা শর্ত নয়। বরং কাউকে প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ করে কোরবানি করানো সম্পূর্ণ বৈধ।
তবে শর্ত হলো, যে সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে সেটি অবশ্যই আমানতদার, বিশ্বস্ত এবং শরিয়ত অনুযায়ী কোরবানি সম্পন্নকারী হতে হবে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—
“আর কোরবানির উটকে আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর নিদর্শন বানিয়েছি। সেগুলোর উপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করো, তারপর যখন সেগুলো পড়ে যায়, তখন তা থেকে খাও এবং অভাবীদেরও খাওয়াও।” (সুরা হজ, আয়াত : ৩৬)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, কোরবানির গোশত শুধু দান নয়; বরং নিজে খাওয়া, পরিবারকে খাওয়ানো এবং গরিবদের মাঝে বিতরণ করা সুন্নত ও উত্তম আমল।
বর্তমানে দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে কোরবানি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, কারণ এর মাধ্যমে বিশ্বের দরিদ্র, যুদ্ধবিধ্বস্ত ও অসহায় মানুষেরাও কোরবানির গোশত পেয়ে থাকে। এটি একদিকে ইবাদত আদায়, অন্যদিকে মানবিক সহমর্মিতারও সুন্দর দৃষ্টান্ত।
তবে এ ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি— সংস্থাটি বিশ্বস্ত হতে হবে, নির্ধারিত দিনে কোরবানি সম্পন্ন করতে হবে, শরিয়তসম্মত পশু ব্যবহার করতে হবে এবং সঠিকভাবে মাংস বিতরণ করতে হবে। কোনো ধরনের প্রতারণা বা লোক দেখানো উদ্দেশ্য থাকা যাবে না।
ইসলাম সহজ ও বাস্তবসম্মত ধর্ম। তাই নিজে উপস্থিত না থেকেও বিশ্বস্ত সংস্থার মাধ্যমে কোরবানি করলে ওয়াজিব আদায় হয়ে যায়। তবে কোরবানির মূল শিক্ষা—আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ, আন্তরিকতা এবং মানুষের প্রতি সহমর্মিতা—সবসময় হৃদয়ে ধারণ করা জরুরি।
আরটিভি/জেএমএ