ঈদুল আজহার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো কোরবানি। এটি ত্যাগ, আনুগত্য ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রতীক। তবে আর্থিক সংকটে থাকা অনেক মুসলমানের মনে প্রশ্ন জাগে ঋণ নিয়ে কোরবানি দেওয়া জায়েজ কি না।
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর কোরবানি ওয়াজিব। প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের কোনো মুসলিম যদি কোরবানির দিনগুলোতে নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তাহলে তার জন্য কোরবানি আদায় করা আবশ্যক। নেসাব হলো সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ, সাড়ে ৫২ ভরি রুপা অথবা সমপরিমাণ অর্থ বা সম্পদের মালিক হওয়া।
তবে যাদের সামর্থ্য নেই, তাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়। এ অবস্থায় ঋণ নিয়ে কোরবানি করা বাধ্যতামূলকও নয়। তবে কেউ যদি ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা রাখেন, তাহলে তিনি ঋণ করে কোরবানি দিতে পারবেন বলে ইসলামী চিন্তাবিদরা মত দিয়েছেন।
প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার ইমাম ইবনে তাইমিয়া বলেন, ঋণ পরিশোধে সক্ষম হলে কোরবানির জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণ নেওয়া ভালো। তবে এটি তার ওপর আবশ্যক নয়। (মাজমু ফতোয়া, খণ্ড: ২৬, পৃষ্ঠা: ৩০৫)
এ বিষয়ে শাইখ আবদুল আজিজ বিন বাজ বলেন, ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য থাকলে ঋণ নিয়ে কোরবানি করতে কোনো সমস্যা নেই। (ফতোয়া বিন বাজ, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩৭)
বাংলাদেশের ইসলামি বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেও কোরবানির সময় নগদ অর্থ না থাকলে ঋণ করে কোরবানি দেওয়া যাবে। তবে ঋণ পরিশোধের মানসিকতা ও সক্ষমতা থাকতে হবে।
ইসলামে কোরবানির মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, আনুগত্য ও তাকওয়া। কোরবানি লোক দেখানো বা বাহাদুরি করার বিষয় নয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও মৃত্যু আল্লাহর জন্য, যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক।
পবিত্র কোরআন আরও বলা হয়েছে, তোমাদের কোরবানির গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না; বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।
অতএব, ঋণ নিয়ে কোরবানি করা বৈধ হলেও তা নির্ভর করবে ব্যক্তির আর্থিক সক্ষমতা ও ঋণ পরিশোধের সামর্থ্যের ওপর। ইসলামে কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং আত্মত্যাগের মানসিকতা গড়ে তোলা।
আরটিভি/এসকে



