বুধবার, ২০ মে ২০২৬ , ১০:২১ পিএম
সামর্থ্যবান, স্বাভাবিক জ্ঞানসম্পন্ন, প্রাপ্তবয়সস্ক মুসলিম যদি কোরবানি ঈদের তিন দিন (১০ জিলহজ সকাল থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগপর্যন্ত) জাকাত পরিমাণ সম্পদের মালিক (সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ ভরি রুপা অথবা এর যে কোনো একটির মূল্যের সমপরিমাণ নগদ অর্থ ব্যবসার পণ্যের মালিক) থাকেন বা হন, তার জন্য কোরবানি ওয়াজিব।
কোরবানিতে আল্লাহ শুধু মানুষের নিয়ত বা ইচ্ছা দেখেন। তাকওয়া দেখেন। যার তাকওয়া যত বেশি, সে আল্লাহর নৈকট্য পাবে তত বেশি। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের কোরবানির পশুর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না। আল্লাহর কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া বা আল্লাহভীতি।’ (সুরা হজ, আয়াত: ৩৭)
পশু জবাই করতে হবে একমাত্র আল্লাহকে খুশি করার জন্য। পশু জবাই আল্লাহর জন্য হলেও এর গোশত খাওয়া আমাদের জন্য বৈধ করে দিয়েছেন তিনি। আল্লাহ বলেন, ‘তা থেকে তোমরা নিজেরা খাও এবং হতদরিদ্রদের খাওয়াও।’ (সুরা হজ, আয়াত: ২৮)
আমাদের দেশের অনেক মানুষ মনে করে, কোরবানির গোশত তিন ভাগে বণ্টন করা জরুরি। সামান্য ত্রুটি হলে কোরবানি হবে না। কেউ কেউ এটাও মনে করে যে, গোশত বণ্টন হতে হবে মেপে মেপে। তিন ভাগের ওজনই সমান হতে হবে, কমবেশি চলবে না।
ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, কোরবানির গোশত তিন ভাগে বণ্টন করা জরুরি নয়। কোরবানিদাতা চাইলে নিজে সব গোশত খেতে পারবে। চাইলে সব সদকা করে দিতে পারবে। তবে তিন ভাগে বণ্টন করা উত্তম।
তিন ভাগে বণ্টন করলে এক অংশ নিজে খাবে। এক অংশ আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের দেবে। আর এক অংশ সদকা করবে। (বাদায়েউস সানায়ে, খণ্ড:৪, পৃষ্ঠা: ২২৪)
ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘হজরত মুহাম্মদ (সা.) কোরবানির গোশত তিন ভাগ করে একভাগ নিজ পরিবারকে খাওয়াতেন। এক ভাগ প্রতিবেশীদের দিতেন ও এক ভাগ অভাবীদের মধ্যে সদকা করতেন।’ মিরআত, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ১২০; ইবনে কুদামা, মুগনি, খণ্ড: ১১, পৃষ্ঠা: ১০৮-১০৯)
কোরবানির গোশত বণ্টনের ক্ষেত্রে উত্তম হলো, তিন ভাগ করে এক অংশ সদকা করা, এক অংশ আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও গরিব প্রতিবেশীকে দেওয়া। আর এক অংশ নিজের জন্য রাখা। এটি মুস্তাহাব ও উত্তম আমল; ওয়াজিব বা আবশ্যক নয়। কোরবানির গোশত তিন ভাগে বণ্টন করা এবং তিন ভাগই সমান করা জরুরি নয়।
আরটিভি/এমএম