images

ধর্ম

প্রতারণা থেকে সাবধান! ইসলামে রয়েছে কঠোর শাস্তির বিধান 

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ , ১০:১০ এএম

সমাজে প্রতারণা, ধোঁকা বা বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করার ঘটনা দিন দিন বেড়ে চলেছে। মিষ্টি কথা ও ভদ্র আচরণের আড়ালে অনেকে অন্যের বড় ধরনের আর্থিক ও মানসিক ক্ষতি করে ফেলেন। তবে ইসলামে এ ধরনের প্রতারণাকে অত্যন্ত গর্হিত ও ভয়াবহ অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এটি শুধু সামাজিক অপরাধই নয়, বরং আখিরাতের কঠিন শাস্তির কারণ হিসেবেও সতর্ক করা হয়েছে।

কুরআনে আল্লাহ তা’আলা ওয়াদা ভঙ্গকারীদের বিষয়ে বলেন—

﴿فَمَن نَّكَثَ فَإِنَّمَا يَنقُضُ عَلَىٰ نَفْسِهِۦ وَمَنْ أَوْفَىٰ بِمَا عَاهَدَ عَلَيْهِ ٱللَّهَ فَسَيُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا﴾
(সূরা আল-ফাতহ, আয়াত ১০)

অর্থ: যে ব্যক্তি ওয়াদা ভঙ্গ করে, তার ক্ষতি তার নিজের ওপরই বর্তায়। আর যে আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকার পূর্ণ করে, আল্লাহ তাকে মহা পুরস্কার দান করবেন। 

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে—

﴿يُخَٰدِعُونَ ٱللَّهَ وَٱلَّذِينَ آمَنُوا وَمَا يَخْدَعُونَ إِلَّا أَنفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ﴾
(সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৯)

অর্থ: তারা আল্লাহ ও মুমিনদের ধোঁকা দেয়, কিন্তু তারা আসলে নিজেদেরই ধোঁকা দেয়, অথচ তারা তা বুঝতে পারে না।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতারণাকে সরাসরি নিন্দা করেছেন এবং বলেছেন—

«مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا»
(সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১০১)

অর্থ: যে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।

আরও পড়ুন
Web-Image

মানুষের পাশে দাঁড়ালেই খুলে যায় রহমতের দরজা 

অন্য হাদীসে এসেছে—

«مَنْ حَمَلَ عَلَيْنَا السِّلَاحَ فَلَيْسَ مِنَّا، وَمَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا»
(সহীহ মুসলিম)

অর্থ: যে আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করে বা আমাদের প্রতারণা করে, সে আমাদের মধ্যে নয়।

একটি বিখ্যাত হাদীসে নবী করিম (সা.) বাজারে গিয়ে এক খাদ্যশস্যের স্তূপে ভেজা অংশ দেখে বলেন, বাইরে শুকনা রেখে ভেতরে ভেজা রাখা কেন করা হলো। এরপর তিনি বলেন—

“যে প্রতারণা করে, সে আমাদের কেউ নয়।”

আরেক হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন প্রতিটি প্রতারকের জন্য তার বিশ্বাসঘাতকতার পরিমাণ অনুযায়ী একটি পতাকা উত্তোলন করা হবে, যা তাকে অপমানিত করবে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ৪৩৮৮)

ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, প্রতারণা শুধু মানুষের অধিকার নষ্ট করে না, বরং এটি বান্দার নেক আমলও ধ্বংস করে দেয়। কিয়ামতের দিন প্রতারকেরা কঠিন অবস্থার সম্মুখীন হবে, কারণ যাদের সাথে তারা অন্যায় করেছে, তারা তাদের নেকি দাবি করবে। ফলে অনেকেই নিঃস্ব অবস্থায় পরিণত হবে।

এক হাদীসে এসেছে, কিয়ামতের দিন এমন মানুষও জাহান্নামে যাবে, যে দুনিয়াতে নেকি অর্জন করেছিল, কিন্তু মানুষের হক নষ্ট, গালি ও প্রতারণার কারণে তার সব নেকি শেষ হয়ে যাবে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ৬৩৪৩)

সুতরাং, প্রতারণা ইসলামে শুধু নিষিদ্ধই নয়, বরং এটি আখিরাতের ভয়াবহ পরিণতির কারণ। একজন মুমিনের উচিত সবসময় সততা, ন্যায় ও আমানতদারিতার পথে চলা এবং অন্যের অধিকার নষ্ট করা থেকে নিজেকে দূরে রাখা।


আরটিভি/জেএমএ