বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬ , ১১:২২ পিএম
সুখ-দুঃখ মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জীবন আছে তো সুখ-দুঃখ থাকবেই। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের জীবনে অল্প-বেশি কষ্ট আছে। জীবনে কষ্টে এলে ধৈর্য ধরতে হবে। আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হবে। কখনো ভেঙে পড়া যাবে না।
কঠিন বিপদের সময় দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে চারটি আমল করার কথা বলেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।
সম্প্রতি ইউটিউবের এক আলোচনায় চারটি আমল করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এ চারটি আমল করার পরামর্শ অনেককে দিয়েছি। যারা করেছেন, তারা সুফল পেয়েছেন। এই আমল করার পরও বিপদ দূর না হলে বুঝতে হবে, আমলে কোনো ত্রুটি ছিল বা বিপদ দূর না হওয়ার মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে।
চারটি আমল হলো—
১. ইস্তেগফার: কোনো বিপদ এলে বা কোথাও ফেঁসে গেলে বেশি বেশি ইস্তেগফার পড়তে হবে। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন, ‘যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব। যে আমার কাছে কিছু চাইবে, আমি তাকে তা দেব।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ইস্তেগফার পড়তেই থাকবে, আল্লাহ তার জন্য সব দুশ্চিন্তা থেকে বের হওয়ার পথ অলৌকিকভাবে আবিষ্কার করে দেবেন।’
ইস্তেগফার হিসেবে এগুলো পড়া যেতে পারে। যেমন—ক. আসতাগ ফিরুল্লাহ (আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি)। খ. আসতাগ ফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাহি (আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছে ফিরে আসছি)। গ. রাব্বিগ ফিরলি ওয়া তুব আলাইয়া, ইন্নাকা আংতাত তাউয়াবুর রাহিম। (হে আমার প্রভু, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি মহান তওবা কবুলকারী করুণাময়।’ এছাড়া অন্যান্য ইসতেগফার পড়া যেতে পারে।
২. দরুদ পড়া। কোরআনে আছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে ইমানদাররা, তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং বেশি পরিমাণে সালাম পাঠ করো।’ (সুরা আহজাব, আয়াত: ৫৬)। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর দরুদ পড়ার মাধ্যমে বিপদ দূর হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দরুদ পড়ার মাধ্যমে ব্যক্তির সব বিপদ দূর হবে। দরুদ পড়লে ব্যক্তি সব পেয়ে যাবে। হাদিসে বর্ণিত বিভিন্ন দরুদ পড়া যেতে পারে। সংক্ষিপ্ত দরুদ হলো—ক. আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন, ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ। খ. সাল্লাল্লাহু আলা মুহাম্মাদ। গ. আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিইয়িল উম্মিইয়ি, ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন।
৩. দোয়া ইউনুস: যে কোনো সংকট ও অস্থিতিশীল সময়ে দোয়া ইউনুস পড়া সুন্নত। এতে দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ দূর হয়। বিপদ-আপদ দূর হয়। হজরত ইউনুস (আ.) বিপদে পড়ে বারবার এ দোয়া পড়েছিলেন। তখন আল্লাহ তার দোয়া কবুল করে তাকে সংকট থেকে মুক্তি দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে এই দোয়া পড়ে, আল্লাহ তার দুশ্চিন্তা দূর করে দেবেন।’ সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫০৫)
দোয়া ইউনুস হলো—লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জালিমিন।
৪. ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম দোয়াটি বেশি বেশি পড়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম’ দোয়াটি তোমরা আঁকড়ে ধরবে।’ এই দোয়া পড়ার মাধ্যমে নিজেকে আল্লাহর কাছে নিবেদন করা হয়। নিজেকে আল্লাহর কাছে সমার্পণ করা হয়। এছাড়াও তাহাজ্জুদ ও বিভিন্ন নফল নামাজ পড়া যেতে পারে।
আরটিভি/ এসকেডি