স্বপ্ন মানুষের জীবনের এক রহস্যময় অংশ। কখনো তা আনন্দের অনুভূতি এনে দেয়, আবার কখনো ভয় ও উদ্বেগের কারণ হয়। বিশেষ করে স্বপ্নে নিজের বা প্রিয়জনের মৃত্যু দেখলে অনেকেই এটিকে বাস্তব মৃত্যুর পূর্বাভাস মনে করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে ইসলামি শিক্ষায় এমন ধারণার কোনো নিশ্চিত ভিত্তি নেই।
ইসলামে স্বপ্নকে ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে দেখার পরিবর্তে এর প্রকৃতি ও উৎসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বপ্নকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন। তিনি বলেন, স্বপ্ন তিন প্রকার একটি আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ, একটি শয়তানের পক্ষ থেকে দুঃখ ও ভীতি সৃষ্টির জন্য এবং একটি মানুষের নিজের মনের চিন্তা-ভাবনার প্রতিফলন। (সহিহ বুখারি: ৬৯৮৯, সহিহ মুসলিম: ২২৬৩)
এ কারণে কোনো স্বপ্ন দেখেই ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ইসলামের শিক্ষা নয়।
নিজের মৃত্যু দেখার ব্যাখ্যা
প্রখ্যাত মুসলিম স্বপ্ন-ব্যাখ্যাকারী ইমাম ইবনে সিরিন (রহ.)-এর বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে, কেউ যদি স্বপ্নে নিজের মৃত্যু দেখে পরে আবার জীবিত হয়ে ওঠেন, তাহলে তা গুনাহ থেকে আন্তরিক তাওবার ইঙ্গিত হতে পারে।
আবার কোনো ব্যক্তি অসুস্থ না হয়েও নিজের মৃত্যু দেখলে, কিছু ব্যাখ্যায় সেটিকে দীর্ঘায়ুর প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর কেউ যদি স্বপ্নে মনে করেন যে তার আর কখনো মৃত্যু হবে না, তাহলে কিছু ব্যাখ্যায় এটিকে আল্লাহর পথে শহীদ হওয়ার সম্ভাব্য সুসংবাদ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
তবে এসবই সম্ভাব্য ব্যাখ্যা; এগুলোকে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।
মৃত হয়ে আবার মৃত্যু দেখার অর্থ
কিছু ইসলামি স্বপ্ন-ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যদি কেউ স্বপ্নে মৃত হয়ে আবার মৃত্যুবরণ করতে দেখেন এবং সেখানে কান্না, আহাজারি বা বিলাপ না থাকে, তাহলে তা পরিবারের আনন্দ, বিয়ে কিংবা অন্য কোনো শুভ ঘটনার প্রতীক হতে পারে।
জানাজা, কাফন ও দাফন দেখলে
স্বপ্নে নিজের জানাজা, কাফন বা দাফন দেখারও একাধিক সম্ভাব্য ব্যাখ্যা রয়েছে। এটি কখনো দ্বীনি দুর্বলতার প্রতি সতর্কবার্তা, কখনো জীবনের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত, আবার কখনো সামাজিক বা পারিবারিক অবস্থার পরিবর্তনের প্রতীক হতে পারে।
একই স্বপ্ন সবার জন্য একই অর্থ বহন করে না। ব্যক্তির অবস্থা, স্বপ্নের পরিবেশ এবং অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে এর ব্যাখ্যা ভিন্ন হতে পারে।
পরিচিত কারও মৃত্যু দেখলে
স্বপ্নে স্ত্রী, সন্তান, আত্মীয় বা পরিচিত কোনো ব্যক্তির মৃত্যু দেখলেও সেটিকে বাস্তব মৃত্যুর সংবাদ মনে করা ঠিক নয়। ইসলামি দৃষ্টিতে এমন স্বপ্নের অর্থ নির্ভর করে ব্যক্তির অবস্থা ও স্বপ্নের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটের ওপর।
ইসলামের নির্দেশনা
ইসলাম শেখায়, একজন মুমিনের বিশ্বাস স্বপ্নের ওপর নয়, বরং আল্লাহর তাকদিরের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাই কোনো অশুভ স্বপ্ন দেখে আতঙ্কিত না হয়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা, বেশি বেশি ইস্তিগফার করা, নেক আমল বৃদ্ধি করা এবং আখিরাতের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেওয়াই উত্তম।
কারণ প্রকৃত সফলতা স্বপ্নের ব্যাখ্যায় নয় বরং ঈমান, তাকওয়া ও নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মধ্যেই নিহিত।
তথ্যসূত্র: ইবনে সিরিন, তফসিরুল আহলাম: ৭৩-৭৪, আল-মাকতাবাতুত তাওফিকিয়্যাহ, কায়রো।
আরটিভি/এসকে



